নির্জনা হত্যা মামলায় গ্রেফতার বাবা আলীম হোসেন আকাশ

# র্যাব ৬ এর অভিযান #
# আগে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন মা #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার আলোচিত কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ (৪০)কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬ স্পেশাল কোম্পানি ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর থানার যৌথ আভিযানিক দল।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ডুমুরিয়া বাজারে আব্দুল কুদ্দুসের চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আলীম হোসেন আকাশ খুলনা সদর থানার মিস্ত্রিপাড়া খাল রোড এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মীর সোহরাব হোসেন।
র্যাব জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য, আলামত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৬ স্পেশাল কোম্পানি এবং কেএমপি সদর থানার যৌথ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে খুলনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই রাতে আরফানা হোসেন নির্জনাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তার মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানাধীন প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনায় খুলনা সদর থানার নারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) লাভলী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে নিহতের বাবা আলীম হোসেন আকাশের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় পুলিশ। এরপর তাকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান শুরু হয়।
এর আগে গত ১০ জুলাই নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫)-কে গ্রেফতার করে খুলনা সদর থানা পুলিশ। পরদিন তিনি স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
১১ জুলাই কেএমপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, তদন্তে উঠে এসেছে নির্জনার একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। সেই পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই তাকে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তার মা।
পুলিশের দাবি, হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও একপর্যায়ে হত্যাকা-ে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন আরিফা ইয়াসমিন সিমা।
মায়ের স্বীকারোক্তির পর থেকেই মামলার অপর আসামি আলীম হোসেন আকাশকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত ছিল। অবশেষে শনিবার ডুমুরিয়া উপজেলার ডুমুরিয়া বাজার এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব ও পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান। তদন্তে হত্যাকা-ের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সহযোগীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



