প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে তোলপাড়

# ফলোআপ : খুলনায় প্রাথমিক শিক্ষায় ‘নীরব’ চাঁদাবাজি #
তিন কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে টিইওকে নির্দেশ ডিপিইও’র
প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে কতিপয় শিক্ষকের বিষোদগার ও উস্কানি
স্টাফ রিপোর্টার : ‘খুলনায় প্রাথমিক শিক্ষায় চলছে ‘নীরব’ চাঁদাবাজি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে নড়েনড়ে বসেছেন এ দপ্তরের কর্মকর্তারা। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ের কার্যক্রম। এ বিষয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়ে সদর থানা শিক্ষা অফিসারকে (টিইও) নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও)।
এদিকে, উল্লিখিত প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে শিষ্ঠাচার বিবর্জিত এবং অশালীন ভাষায় চরমভাবে বিষোদগার শুরু করেছেন কতিপয় শিক্ষক। এমনকি এ প্রতিবেদকের ‘শাস্তি’ এবং প্রেস ক্লাব ঘেরাও’র মত ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণও করছেন কেউ কেউ। তবে, তারা এসব কিছুই সরাসরি বা প্রকাশ্যে করছেন না, বরং ‘প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার’ নামক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে লিখে শিক্ষকদের উস্কানি দিয়ে উত্তেজিত এবং নিজেদের অপকর্ম ঢাকার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রভাবশালী শিক্ষক নেতাদের পক্ষে দালালিও শুরু করেছেন কেউ কেউ। যদিও সদরের সহস্রাধিক সাধারণ শিক্ষক অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের মানসিকতা পোষণ করলেও কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
অপরদিকে, গত ২২ জুন সোমবার নগরীর মহেশ্বরপাশা কেএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন (সকাল ১০টা থেকে) দু’জন শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যেখানে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দেড় শতাধিক শিক্ষক অংশ নিয়ে ভূড়িভোজ করেন। যথারীতি এ খাতেও চাঁদা তুলে ফুলবাড়ীগেট বি.কে ক্লাস্টার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও) শেখ অহিদুল আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, এ বিষয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়ে সদর থানা শিক্ষা অফিসারকে (টিইও) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যা পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বিষয়টি নিশ্চিতও করেছেন সদর থানা শিক্ষা অফিসারকে (টিইও) মো. শাহজাহান। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি আমলে নিয়েছি। প্রাথমিক পর্যায়ের যাচাই-বাছাই কাজ শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে ডিপিইও স্যার নির্দেশনা দিয়েছেন।
অনুসন্ধানী সূত্রে জানা গেছে, প্রকাশিত সংবাদের প্রসঙ্গ টেনে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার’ নামক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ‘প্রতিবাদ ও নিন্দা’ শিরোনামে পুরো প্রতিবেদেনটিকে ‘অপপ্রচার’ দাবি করে বিষয়টির অবসান কামনা করেন নগরীর মানিকতলা আবু সুফিয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রণব সরকার। আর তার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমান শিষ্ঠাচার বিবর্জিত এবং অশালীন ভাষায় চরমভাবে বিষোদগার শুরু করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই বজ্জাত সাংবাদিকের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও ধিক্কার জানাচ্ছি, তাকে খুঁজে উপযুক্ত মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, আজই (২৪ জুন) টাইম দিয়ে চলেন সবাই যাই প্রেস ক্লাব ঘেরাও করি’- ইত্যাদি ইত্যাদি।
এছাড়াও ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিলিদা ইয়াসমিন, বীনাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফাল্গুনী সাহা ও উন্মেষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেব বিশ্বাসও একই ধরণের বিষোদগার করেন।
তবে, মহেশ্বরপাশা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এসকে জামান সংশ্লিষ্টদের উল্লিখিত মন্তব্য করতে নিষেধ করে লেখেন, ‘কেউ আর কোন ম্যাসেজ দিয়েন না, যিনি নিউজ করেছেন তাকে ভুল বোঝানো হয়েছে’। এরপর থেকেই কথিত বিপ্লবীরা নিজ নিজ মন্তব্য ডিলিট করতে শুরু করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন দৈনিক প্রবাহে ‘খুলনায় প্রাথমিক শিক্ষায় চলছে ‘নীরব’ চাঁদাবাজি! কতিপয় শিক্ষক নেতার কাছে জিম্মি ১২৬ স্কুল, চাঁদা চাওয়া হয় ম্যাসেঞ্জারে, তোলা হয় বিকাশে, ভাগা যায় কর্মকর্তাদের পকেটেও, সাধারণ শিক্ষকদের নীরব কান্না শুনতে পায় না কর্তৃপক্ষ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রধান শিরোনামে প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে ‘দ্রুত জমা দিন, কারণ জুন ক্লোজিং, অন্যান্য ক্লাস্টার আজ জমা দিবে, সব ক্লাস্টারের একত্র করে আমাদের বিল-ভাউচার পাশ করাতে হবে, প্রতি বছর আমরা দিয়ে থাকি, এটা সবাই অবগত’, মুজিবুর স্যারের সাথে যোগাযোগ বা স্যারের বিকাশে ৫১০ করে জমা দিলে হবে’- এভাবেই প্রতিটি ক্লাস্টারের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে ম্যাসেজ পাঠিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা হয়। আর এ ম্যাসেজ দেন নগরীর গগন বাবু রোডস্থ খানজাহান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত রায়। আর তিনি যার বিকাশে টাকা পাঠাতে বলছেন তিনি হলেন- আব্দুল গণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুজিবুর রহমান।



