স্থানীয় সংবাদ

খালিশপুর আশরাফুল উলুম বয়স্ক মাদ্রাসায় ও মসজিদে দুর্নীতি স্বজনপ্রীতির নজির স্থাপন করেছেন ওলামালীগ নেতা

স্টাফ রিপোর্টারঃ খালিশপুর আশরাফুল উলুম বয়স্ক মাদ্রাসা ও আল-আকসা জামে মসজিদে যেন দুনীতি, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির নজির স্থাপন করেছেন ওলামালীগ নেতা। তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ১৩টি অভিযোগ সম্বলিত গণস্বাক্ষরকৃত অভিযোগ দাখিল করেছে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নগরীর খালিশপুর থানাধীন পিপলস পাঁচতলা কলোনীতে অবস্থিত আশরাফুল উলুম বয়স্ক মাদ্রাসা ও আল-আকসা জামে মসজিদ ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম হিসেবে আবুল কাছেম দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয় মুসল্লি, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছরেও মসজিদ ও মাদ্রাসার কোনো স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানের সকল প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম একক কর্তৃত্বে পরিচালিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মাদ্রাসার মুহতামিম আবুল কাছেম ওলামালীগের গুরুত্বপূর্ন দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। ফ্যাসিস্ট আমলে স্থানীয় কাউন্সিলর ও ১১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক এর সাথে আতাত করে গত ১৭ বছর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয় মুসল্লীদের বিভিন্ন ভাবে অপমান অপদস্ত করা ও মসজিদ থেকে বের করে দেওয়ার মত গুরুতর অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে। তিনি এহসান সোসাইটি নামক একটি প্রতারনামূলক প্রতিষ্ঠানের খালিশপুর থানার প্রধান জিম্মাদার হিসাবে বিগত সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বহু মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পরে বিএনপি সরকার প্রত্যেক মসজিদে তিন লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু কাছেম সাহেব বিরুদ্ধে ৬ লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগ রয়েছে। কারন তিনি আশরাফুল উলুম বয়স্ক মাদ্রাসাকেও মসজিদ দেখিয়ে এবং আল আকসা জামে মসজিদ এই পাশাপাশি দু’ প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ছয়লক্ষ টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে। বরাদ্দকৃত সরকারী অর্থ মসজিদ- মাদ্রাসায় যথাযথ ব্যয় না করে মিথ্যা ভাউচার বানিয়ে সরকারী অর্থ উত্তোলনের করেছেন। মাদ্রাসার মুহতামিম কাছেম সাহেব নিজে, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল তার ছেলে খালেদ সাইফুল্লাহ, মসজিদের ইমাম উসমান গনি তার বিয়াই, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল ক্দ্দুুস তার মেয়ের জামাই। এভাবে মসজিদ ও মাদ্রাসার বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ পদে আত্মীয়স্বজন নিয়োগের মাধ্যমে স্বজনপ্রীতির নজির স্থাপন করেছেন। সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ের অনুদান এবং দানের অর্থের আয়-ব্যায়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করেন না। মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে প্রাপ্ত বিভিন্ন অনুদান ও সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কিনা তার কোন হিসাব তিনি দিতে নারাজ। এতিমখানা ও আবাসিক মাদ্রাসা হিসেবে বিভিন্ন স্থানে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে এতিম শিক্ষার্থী, বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য সুবিধা প্রদানের বিষয়টি যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। মসজিদ পরিচালনা, নামাজের সময় সূচি, মক্তব শিক্ষা কার্যক্রম এবং ধর্মীয় সেবার মান নিয়ে স্থানীয় মুসল্লিদের বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন। বিগত সরকারের আমলে গঠিত কমিটির স্বাক্ষর ব্যবহার করেই এখনো পর্যন্ত মসজিদ ও মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে। বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের কাছে ওই ব্যাংক হিসাবের বিবরন, লেনদেনের তথ্য, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা আর্থিক নথিপত্র হস্তান্তর করা হয়নি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যাংক হিসাবের সম্পূর্ন লেনদেন, অর্থ উত্তোলনের বৈধতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করার জন্য বিশেষভাবে আবেদন করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের নিকট থেকে সংগৃহীত অনুদান, কোরবানি কার্যক্রম ও ধর্মীয় কর্মসূচির আর্থিক স্বচ্ছতা যাচাই নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সরকারী ভাতা, অনুদান ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের নিকট পৌছেছে কিনা তা তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগসমূহের সত্যতা যাচাইপূর্বক একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে অভিযোগকারীরা। কাছেম সাহেব অধিকাংশ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কখন ওলামালীগের সাথে জড়িত ছিলেন না। আ’লীগের সময় তার মাদ্রাসায় মাহফিলে একজন বক্তা আ’লীগের বিভিন্ন ভূল নিয়ে সমালোচনা করেন। এ সময় খালিশপুর থানার আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বাশারের ছোট ভাই আশরাফ এসে মাহফিলের মঞ্চ ভেঙ্গে দেয়। কওমী মাদ্রাসা স্বীকৃতির বিষয় নিয়ে তিনি একাধিকবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠক করেন। সম্প্রতি মসজিদের অনুদানের ৬ লাখ টাকা গ্রহণের সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ভূলক্রমে মাদ্রাসার স্থানে মসজিদ লেখা হয়েছে। বিষয়টি ধরা পড়ার পর ডিসির সাথে দেখা করে বিষয়টি অবগত করা হয়। কিন্তু ডিসি সাহেব এ ব্যাপারে কিছু করার নেই বলে জানান। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানে ১৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ জন লিল্লাহ বোর্ডিং থাকে। প্রতিষ্ঠানে দাওরা হাদিস পর্যন্ত পড়ানো হয়। তার ছেলে খুবই মেধাবী এবং উচ্চ সনদধারী। তাকে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে এলাকাবাসী ধরে রেখেছে। তবে তিনি ওলামালীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন-এমন দাবির স্বপক্ষে কোন প্রমাণ অভিযোগকারীরা দেখাতে পারেনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button