স্থানীয় সংবাদ

গতি ফিরে দৃশ্যমান হচ্ছে খুলনার গল্লামারি সেতু

# সেপ্টেম্বর নাগাদ যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে
# প্রকল্পের অগ্রগতি ৪২ শতাংশ
# একাংশের কাজ ৭৫ ভাগ সম্পন্ন #

এম রুহুল আমিন : কাজের গতি ফিরে দৃশ্যমান হচ্ছে খুলনার প্রবেশদ্বার খ্যাত গল্লামারি সেতু। দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে খুলনা মহানগরীর ব্যস্ততম ময়ূর নদের উপর পাশাপাশি নির্মিত দু’টি দৃষ্টিনন্দন স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ টাইপের গল্লামারী সেতুর নির্মাণ কাজ। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরে হঠাৎ থমকে যায় সেতুটির নির্মান কাজ। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বলছে জুনের মধ্যে মূল সেতুর স্টিল স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয়েছে। দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ আনুষাঙ্গিক কাজ শেষ করে সেপ্টেম্বর নাগাদ জন সাধারনের যানবহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। সেতু সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেতুটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দিন রাত কাজ করছে। সেতুর স্টিল স্ট্রাকচার সংযোগ ও মেইন আর্চের সংযোগ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ডেক স্ল্যাব ঢালাই এবং হ্যাঙ্গার স্থাপনের কাজ চলমান। সেতুটি ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর উদ্বোধনের পর ৩৩ মাসে প্রকল্পের অগ্রগতি ৪২ শতাংশ। প্রথম সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ৭৫ শতাংশ। প্রথমটির কাজ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। সেতুটিতে মোট ২৮৭ খ-াংশ স্টিল স্ট্রাকচার, ২৮ দশমিক ৬৮ টন নাট-বোল্ট ব্যবহৃত হচ্ছে। স্টিলের স্ট্রাকচারগুলো খুবই উন্নত মানের। সেতুটি নির্মাণে চায়না ও ইন্ডিয়া থেকে মালামাল আমদানি করতে হয়েছে। সেতুর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই) সেতুর বাস্তবায়নকারী সংস্থা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)’র কাছে প্রকল্পের কাজ সম্পন্নের জন্য ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে। সেতু বাস্তবায়নকারী সংস্থা খুলনা সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তানিমুল হক বলেন, খুলনা শহরের প্রবেশদ্বার গুরুত্বপূর্ণ খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজার হাজার যানবাহনের চালক এবং পথচারীদের দুর্ভোগ লাগবে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ব্রিজটি নতুন নকশায় করা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ কারো কাজের অভিজ্ঞতা তেমন ছিলনা। অভিজ্ঞতার ঘাটতি ছিল। ভারতের কনসালটেন্ট কোম্পানী, তাদের সাথে পরামর্শ করে কাজগুলো করা হয়েছে। কাজের মান’র ক্ষেেেত্র কোন ছাড় দেয়া হবে। মেয়াদ বাড়লেও টাকার পরিমাণ একই থাকছে। কার্যাদেশের চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। আশা করি খুলনায় খুবই সুন্দর এবং দৃষ্টিনন্দন হবে গল্লামারি সেতু। প্রথমটির কাজ শেষ হওয়ার পর পরই দ্বিতীয়টির কাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য,সেতু নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংকে (এনডিই) কার্যাদেশ দেয় সড়ক বিভাগ। চুক্তির আওতায় স্টিলের দু’টি সেতু এবং সেতুতে যানবাহন ও পথচারীদের ওঠানামার জন্য দুই পাশে প্রায় ৭৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে হবে। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর পুরাতন সেতুটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করে ঠিকাদার। ওই বছরই নতুন সেতুর কাজ শুরু হয়। কিন্তু ২০২৪-্এর আগস্টের পর থেকে দৃশ্যমান সব কাজ থমকে গেছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী সেতুটির নির্মাণ কাজ ১৮ মাসে অর্থাৎ চলতি বছরের ৩০ মার্চ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের আবেদনে ইতোমধ্যে কাজের মেয়াদ ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি হলেও নিদিষ্ট সময়ে শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণ কাজ। চুক্তি অনুযায়ী দু’টি সেতুসহ ৭৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৬৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সেতু দু’টির দৈর্ঘ্য ৬৮ দশমিক ৭ মিটার, প্রস্থ ২৩ মিটার এবং উচ্চতা হবে ৪ মিটার। সেতু দু’টি হবে দুই লেন বিশিষ্ট। কার্যাদেশ অনুযায়ী সেতু দু’টি নির্মাণ কাজ ১৮ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৩৩ মাসেও শেষ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button