স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় চালক সংকটে গ্যারেজ বন্দী সরকারি এ্যাম্বুলেন্স

# ২১ টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে ১২টি সচল, চালক আছে ৭ টির
# কয়রা ও দাকোপে চালক সংকটে প্রায় বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবা
# জরুরী রোগিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর

কামাল মোস্তফা : চালক সংকটে বিঘিœত হচ্ছে খুলনার নয় উপজেলার এ্যাম্বুলেন্স সেবা। জরুরী প্রয়োজনে রোগিদের গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ টাকা। শহরে এসে চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর বাজেটের বড় অংশই চলে যাচ্ছে বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া মেটাতে। চালকের অভাবে গ্যারেজে বন্দী সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। আবার প্রায় অর্ধেক অ্যাম্বুলেন্স বছরের পর বছর পড়ে আছে অকোজো অবস্থায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার উপক’লীয় উপজেলা কয়রা ও দাকোপ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালক সংকটে দীর্ঘদিন ধরে স্বাভাবিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা ব্যহত হচ্ছে। দাকোপে তিন বছর যাবৎ অ্যাম্বেেুন্সর চালক পদটি শূণ্য। কয়রায় থাকা চালককে দূর্নীতির অভিযোগে ছয় মাস আগে শাস্তিস্বরুপ দিঘলিয়ায় বদলি করা হয়েছে। ফলে সেখানেও চালক পদ শূন্য। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরবিার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ব্যক্তিগত চালক বা কখনো আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারি দিয়ে মাঝে মধ্যে দেয়া হচ্ছে সেবা। ফলে জরুরী রোগিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যয়বহুল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর। সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলার নয়টি উপজেলায় মোট ২১টি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে মাত্র ১২টি সচল রয়েছে। অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে ৯টি অ্যাম্বুলেন্স। জেলার দাকোপ উপজেলায় ৩ টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের অভাবে পড়ে আছে, বাকিটা অচল ২০১৮ সাল থেকে। বটিয়াঘাটায় দুটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য চালক একজন। রুপসায় ২টির মধ্যে একটি সচল, অন্যটি একযুগ ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। দিঘলিয়া উপজেলায় দুটির মধ্যে ১টি সচল রয়েছে। তেরোখাদায় তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি সচল রয়েছে। বাকি দুটির একটি ২০০৯ সালে অন্যটি ২০১৮ সাল থেকে অকোজো। ফুলতলা ও ডুমুরিয়ায় দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি করে সচল রয়েছে। পাইকগাছায় ৩টি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দুটিই অচল।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, চালক বদলি হওয়ার পর শূন্য পদে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। আমি আমার ব্যক্তিগত আউটসোর্সিং চালককে দিয়ে কোনোমতে সেবা চালু রাখার চেষ্টা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা শহর থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী উপজেলা কয়রা। চিকিৎসা সেবায় যেখানে এ্যাম্বুলেন্স অপরিহার্য সেখানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা সরকারি এ্যাম্বুলেন্সটি চালক বিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। কোন যুক্তিতে এখানে থাকা চালককে বদলি করে জেলা শহরের নিকটবর্তী একটি উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। অথচ গত ছয় মাসে এখানে কোন চালক নিয়োগ দেয়া হলো না। দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুদীপ বালা জানান, তিন বছর ধরে চালকের পদটি শূণ্য। গাড়ি থাকলেও চালক নেই। সেবা প্রার্থীদের কোন সদুত্তর দিতে পারি না। মাঝে মধ্যে ড্রাইভিংয়ে পারদর্শী আউটসোর্সিং কর্মচারী দিয়ে সেবা চালু রেখেছি। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সিভিল সার্জন ডাঃ মাহফুজা খানম দাবি করেন, জেলার কোন উপজেলায় অ্যাম্বুলেস্ব সেবা বন্ধ নেই। যেখানে চালক নেই সেখানে আউটসোর্সিং কর্মচারী দিয়ে সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, যেখানে চালক নেই সমাধানে কাজ করছি। পাশাপাশি অচল অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ব্যাপারেও উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চালকের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অন্য উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button