ভারী বর্ষণে মণিরামপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে প্লাবিত মৎস্য ও সবজি চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির আশংকায় রয়েছে

মোঃ আব্বাস উদ্দীন,মণিরামপুর(যশোর)প্রতিনিধিঃ গত চারদিনের টানা ভারী বর্ষণে মণিরামপুর উপজেলার ভবদহ অধ্যুষিত বিলাঞ্চল ও পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে। আকষ্মিক টানা ভারী বৃষ্টিপাতে উপজেলার বিস্তীর্ণ নি¤œাঞ্চলে এখন অথৈ পানি আর পানি! নি¤œাঞ্চলের বহু মৎস্য ঘের, পুকুর-ডোবা পানিতে প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে। নিন্মভূমির রোপা আমন ধানের বীজতলা ও সব্জির ক্ষেত ডুবে যেয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা চারদিনের ভারী বৃষ্টিতে মণিরামপুর উপজেলা ব্যাপি জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। টানা ভারী বর্ষণে খাল, বিল, পুকুর-ডোবা ও বাওড় পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে। বাড়ির আঙিনা ও গ্রামীণ সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পূর্বাঞ্চলের কুলটিয়া, সুজাতপুর, লখাইডাঙ্গা, মহিষদিয়া, আলীপুর, পোড়াডাঙ্গা, পদ্মনাথপুর, পাড়িয়ালী, দহাকুলা, কুচলিয়া, নেবুগাতি, পাঁচকাটিয়া, ভুলবাড়িয়া, কুমারসীমা, বালিধা, পাঁচাকড়ি, নেহালপুর,কপালিয়া, মশিয়াহাটি গ্রামসহ বহু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ভবদহ অধ্যুষিত এসব এলাকায় অতিবৃষ্টিতে কিছু কিছু মাছের ঘের প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে। মাছের ঘের ভেসে যাওয়ার আশংকায় রয়েছে বহু মৎস্য চাষী। আর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চল বিশেষ করে হানুয়ার, মোবারকপুর, খালিয়া, কোমলপুর, দোদাড়িয়া, ঝাঁপা, রামপুর, শাহাপুর, হেলাঞ্চী, খেদাপাড়া, রোহিতা, হরিহরনগর, মশ্বিমনগর, কাঁঠালতলা, নোয়ালী, চাকলা ও খোরদোসহ আশপাশের গ্রামের নিচু এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব অঞ্চলে আমন ধানের বীজতলা ও সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির আশংকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
হানুয়ার গ্রামের কৃষক আব্দুল রহিম জানান,টানা ভারী বৃষ্টিতে তার সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি নিষ্কাষন না হলে বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা করছেন তিনি।
মোবারকপুরের কৃষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বেগুন, মরিচ ও পেঁপের জমিতে পানি জমে আছে। এভাবে পানি জমে থাকলে অধিকাংশ গাছ নষ্ট হয়ে যাবে। এতে আমাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, টানা বৃষ্টিতে গ্রামের অনেক রাস্তায় পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাড়ির উঠানে পানি উঠে যাওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভগীরত চদ্র বলেন, গত চরদিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে কিছু এলাকার কৃষিজমি, বিশেষ করে সবজি ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষকদের জমিতে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে এবং বৃষ্টি থেমে গেলে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি।
এদিকে, টানা বর্ষণে এলাকার খাল, বিল ও জলাশয়গুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে এবং এভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা কৃষি অফিস, মৎস্য অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপনের কাজ চলছে।



