স্থানীয় সংবাদ

খুলনা ১২০০ আন্দোলনকারিকে আসামি করে মামলা

জুলাই আন্দোলনের দিনগুলি-৩৪
# নাহিদের সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা

এম সাইফুল ইসলাম ঃ চব্বিশের ৩ আগস্ট শনিবার। আন্দোলনকারীদের কাছে ছিল ৩৪ জুলাই। এদিন নানা শ্রেণী-পেশার আপামর জনসাধারণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়। উদ্বেলিত ছাত্র-জনতার প্রতিবাদী স্লোগানে প্রকম্পিত হয় ঢাকার আকাশ-বাতাস। খুলনায় বিক্ষোভকারী প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। লবণচরা থানার উপপরিদর্শক মোস্তফা সাকলাইন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্ব ঘোষিত এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে এদিন সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মিছিল আসতে থাকে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই পুরো এলাকাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ৩ আগস্ট বিকেলে তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা সাফ জানিয়ে দেন ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। দাবি এখন একটাই- স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতন। শিক্ষার্থীদের পক্ষে তৎকালীন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের এক দফার ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনার সরকার ও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটাতে হবে। এদিকে, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এদিন ব্যান্ড ও সংগীত শিল্পীরাও মাঠে নামেন। ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবরে সংহতি জানিয়ে শিল্পীদের অনেকেই শহীদ মিনারে যোগ দেন। এছাড়াও, সেদিন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারাও সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ওইদিন বিএনপি তাদের অবস্থান জানালে সমর্থন আরও জোড়ালো হয়। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, শুধু নৈতিক সমর্থন নয়, আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সব ধরণের সহযোগিতা করবে বিএনপি। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলন দমাতে ৩ আগস্ট রাতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, শিক্ষক এবং কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শেখ হাসিনা। তখন আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button