স্থানীয় সংবাদ

“ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহীদদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন সম্ভব”

# জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে মহানগর ছাত্রশিবিরের ‘অদম্য জুলাই’ সমাবেশে বক্তারা #

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ জুলাই অভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তিতে খুলনায় মহানগর ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘অদম্য জুলাই’ শীর্ষক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল অধিকার, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আইনের শাসন ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই শহীদদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন সম্ভব।” জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, খুলনা মহানগর শাখা এ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকাল ৫টায় নগরীর ডাকবাংলা সোনালী ব্যাংক চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিববাড়ি মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগর সভাপতি রাকিব হাসানের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও খুলনা মহানগর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি প্রিন্সিপাল জাহাঙ্গীর আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রিন্সিপাল জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও আমরা জুলাই আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ দেখতে পাচ্ছি না। গণভোটের গণরায়ের বাস্তবায়ন হচ্ছে না। জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর দেশপ্রেমিক সেনা অফিসার হত্যা, শাপলা গণহত্যা, আল্লামা সাঈদীর রায়ের দিনের গণহত্যা থেকে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণহত্যাসহ সকল খুনের বিচার করতে হবে। ফ্যাসিস্ট দোসরদের বিচার কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”

মহানগর সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক ও মহানগর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় আরাফাত হোসেন মিলন বলেন, “আমরা অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে সরকারের কাছে আহবান জানাই। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল দাবীই ছিলো বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। তাই, বিদ্যমান সকল ব্যবস্থা সংস্কার করতে হবে এবং অচিরেই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।”

গণভোটের গণরায় এবং জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ’, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, করতে হবে, করতে হবে’, ‘সাঈদী আবরার হাদি, শেষ হয়নি আজাদী’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দেবে জনগণ’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনী হাসিনার ফাঁসি চাই’, ‘লাল জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’–সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সভাপতির বক্তব্যে মহানগর সভাপতি রাকিব হাসান বলেন, “জুলাই নিছক কোনো মাস নয়, এটি আমাদের চেতনার প্রতীক। জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল। আজ আমরা সেই শহীদদের স্মরণে একত্রিত হয়েছি এবং তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকার ছাত্র-জনতার অধিকার খর্ব করার চেষ্টা করছে। শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।”

মহানগর সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সাথে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। গণহত্যার সাথে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে গণভোটে জনগণের দেয়া রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।”

‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে মহানগর ছাত্রশিবির নেতৃবৃৃন্দের মধ্যে দপ্তর সম্পাদক আহমেদ সালেহীন, বায়তুলমাল সম্পাদক কামরুল হাসান, প্রচার ও এইচআরডি সম্পাদক এস এম বেলাল হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক আব্দুর রশিদ, প্রকাশনা ও বিজ্ঞান সম্পাদক ফারহান তূর্য, প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক ইমরানুল হক, সোশ্যাল মিডিয়া সম্পাদক সেলিম হোসেন, স্কুল ও বিতর্ক সম্পাদক আদনান মল্লিক যুবরাজ, কলেজ ও ছাত্র অধিকার সম্পাদক হযরত আলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক হাফেজ মহিব্বুল্লাহ, ফাউন্ডেশন সম্পাদক হাবিবুল্লাহ রাজু, মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ নাঈম হোসাইন, গবেষণা সম্পাদক হামজা, মিডিয়া ও আইটি সম্পাদক মোস্তফা কামাল, পাঠাগার ও সমাজসেবা সম্পাদক শিবলুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক এহসানুল মাহবুব সাকিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা তুলে ধরে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা গণহত্যার ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button