স্থানীয় সংবাদ

জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

# খুবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন #

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট (বুধবার) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপন করা হয়েছে। শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সংবাদপত্রের ক্লিপিংস প্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, দোয়া, প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে বেলা ১১টায় অদম্য বাংলা চত্বর থেকে শিক্ষার্থী-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের মেইন গেট ঘুরে দ্বিতীয় গেট হয়ে হাদী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্ষমতাসীনদের অন্যায্য ও অবমাননাকর মন্তব্য এবং পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নৃশংস হামলার পর এক দফার আন্দোলনে রূপ নেয়। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তিনি আরও বলেন, ১৮ জুলাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদায় ‘শহিদ মীর মুগ্ধ দিবস’ পালন করা হয়েছে। ওইদিন জুলাইয়ের শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতিকে নতুন স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি করেছে। জুলাইয়ের অবদান কখনও ভুলে গেলে চলবে না এবং এর চেতনাকে ধারণ করেই সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে হবে। দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে তিনি সকল শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলেন। সে সময় একটি দানবীয় সরকারের পতন হয়েছিল। জুলাই আন্দোলনের স্পিরিটকে ধরে রাখার পাশাপাশি সমাজে যেন স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা লাভ করে। এর মাধ্যমে দেশের কর্তৃত্ববাদী ও নিপীড়নমূলক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে। তিনি জুলাইয়ের ঐক্য অটুট রেখে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ সালাউদ্দীন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের প্রধান, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকসহ সকল পর্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া সংলগ্ন স্থানে রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব খুলনা ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে ‘ক্যাম্পাস ক্লিনিং’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপাচার্য। এর পরপরই গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনে প্রকাশিত সংবাদপত্রের ক্লিপিংস নিয়ে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনের পর উপাচার্য প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। দুপুর ১২টায় চারুকলা স্কুলের আঙ্গিনায় শিশু শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় তিন গ্রুপে ৮৪জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতা শেষে দুপুর ২.৩০ মিনিটে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী। আইন স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ও দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ নাসিফ আহসানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ সালাউদ্দীন। দিবসটি উপলক্ষ্যে বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল কুদ্দুস। এছাড়া সন্ধ্যায় মন্দিরে প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকাল ৩.৩০ মিনিট থেকে ৫.৩০ মিনিট পর্যন্ত অদম্য বাংলা চত্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের আয়োজনে ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান’ অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button