স্থানীয় সংবাদ

জুলাই চেতনায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে কোনো আপস চলবে না : মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান

 

# জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ পতনের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশ #

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেছেন, জুলাই নিছক একটি মাসের নাম নয়; এ অঞ্চলের কয়েক দশকের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবাদের নাম জুলাই। সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর অন্যতম শ্রেষ্ঠত্বের নামও জুলাই। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এটি একটি স্থায়ী হুঙ্কারের নাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক দলিলের নামও জুলাই। তিনি বলেন, জুলাইকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা অনেকেই করছে, তবে তা সম্ভব হবে না। জুলাই চেতনায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে কোনো আপস চলবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান না ঘটে, সে জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এসময়, ‎‎তিনি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে নগরীর বাবরী চত্বরে (শিববাড়ি মোড়) জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িতদেও বিচারের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য খুলনা আয়োজিত গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা সমন্বয়কারী এডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় সভায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা মাস্টার শফিকুল আলম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাঈদুর রহমান, লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সাইফুদ্দোহা, এনসিপির মহানগর সংগঠক আহম্মদ হামীম রাহাত, বিডিপির মহানগর সভাপতি এডভোকেট মো. হানিফ উদ্দীন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, জাগপার খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতি রাকিব হাসান, জাতীয় যুবশক্তির খুলনা জেলা আহবায়ক সাজিদুল ইসলাম বাপ্পী, খুলনা মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, অফিস সেক্রেটারি মিম মিরাজ হোসাইন, মহানগরী জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, লেবার পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাওলাদার, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, খালিশপুর থানা আমীর মুহা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ হুসাইন আনসারী প্রমুখ।
মহানগরী আমীর বলেন, গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করার পর থেকেই যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ব্যতীত জুলাই আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে না। জুলাই আকাক্সক্ষার প্রতিফলন না ঘটলে আবারও সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদ নতুন রূপে আবির্ভূত হবে। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বর্তমান সরকার জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা ও চেতনাকে অবমাননা করেছে। ফলে মাত্র পাঁচ মাসেই সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে যুবদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীরা হেলমেট পড়ে দেশীয় অস্ত্র হাসুয়া, লাঠি সোঠা নিয়ে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মিছিল করছে। ঢাকার বকশীবাজারে হেলমেট পড়ে যুবদল নেতা নয়নের নেতৃত্ব সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। এসব কর্মকান্ড দেখে বলতে দ্বিধা নেই বিএনপির উপর ফ্যাসিবাদী শাসনের ছায়া ভর করেছে। তারা বিরোধী মতকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। যা জাতির জন্য অশনি সংকেত, যা শিক্ষাঙ্গনের জন্য একটি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। চব্বিশের বিপ্লবী ছাত্র-জনতা এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিহত করবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি যেসব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা এমন হামলা চালিয়েছে অবিলম্বে তাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংঘটিত এসব হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাডেমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বক্তারা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের বেনিফিসিয়ারি ছাত্রদলের এমন সন্ত্রাসী হামলা দেখে দেশবাসী হতবাক হয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করছি, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের এমন সন্ত্রাসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং দেশ ও ক্যাম্পাসসমূহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিএনপি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের সকল শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দেশবাসীকে সকল অন্যায় ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button