স্থানীয় সংবাদ

সারাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মহানগর ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়াসহ সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-যুবদল-বিএনপির সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, খুলনা মহানগর শাখা। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৫টায় নগরীর পাওয়ার হাউজ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শিববাড়ি মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগর সভাপতি রাকিব হাসানের সভাপতিত্বে এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও খুলনা মহানগর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী। মহানগর সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক মহানগর সভাপতি জাহিদুর রহমান নাঈম। বিক্ষোভ মিছিলে মহানগর ছাত্রশিবির নেতৃবৃৃন্দের মধ্যে দপ্তর সম্পাদক আহমেদ সালেহীন, বায়তুলমাল সম্পাদক কামরুল হাসান, প্রচার ও এইচআরডি সম্পাদক এস এম বেলাল হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক আব্দুর রশিদ, প্রকাশনা ও বিজ্ঞান সম্পাদক ফারহান তূর্য, প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক ইমরানুল হক, তথ্য সম্পাদক সেলিম বিন আব্দুস সালাম, স্কুল ও বিতর্ক সম্পাদক আদনান মল্লিক যুবরাজ, কলেজ ও ছাত্র অধিকার সম্পাদক হযরত আলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক হাফেজ মহিব্বুল্লাহ, ফাউন্ডেশন সম্পাদক হাবিবুল্লাহ রাজু, মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ নাঈম হোসাইন, গবেষণা সম্পাদক হামজা, মিডিয়া ও আইটি সম্পাদক মোস্তফা কামাল, পাঠাগার ও সমাজসেবা সম্পাদক শিবলুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক এহসানুল মাহবুব সাকিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের মাঝে সম্মানি দেয়ার সময় রাজনৈতিক নেতাদের মঞ্চে না ডাকায় নেতাদের ক্ষোভ ও সভাস্থল ত্যাগ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ঃ সাতক্ষীরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মানি দেয়ার সময় রাজনৈতিক নেতাদের মঞ্চে না ডাকায় জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠান শেষ না করেই দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা থেকে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাঝে সম্মানী দেয়ার সময় তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করে সভাস্থল ত্যাগ করেন। যদিও জেলা প্রশাসক তা অস্বীকার করে জানিয়েছেন, কেউ অনুষ্ঠান ত্যাগ করেননি, সবাই শেষ পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন।
সভা থেকে এসময় ৪ জন শহিদ পরিবারের মাঝে মাথাপিছু ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং আহতদের মাঝে মাথাপিছু ৫০০ টাকার প্রাইজবন্ড প্রদান করা হয়। ৪ জন শহীদ পরিবারসহ সর্বমোট ১০১ জনের মাঝে এ সম্মানী প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহবায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল ও সেক্রেটারি মাওঃ আজিজুর রহমানসহ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৪ জন শহিদ পরিবার ও আহত ৯৭ জন জুলাই যোদ্ধাকে সম্মানি প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বক্তব্য শেষ করার পর পুলিশ সুপার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলমকে মঞ্চে ডেকে নেয়া হয়। সম্মানি বিতরণের সময় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার দুইজন মঞ্চে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের উক্ত সম্মানী উপহার বিতরণ করেন। তবে সেখানে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কাউকেই এ সময় মঞ্চে ডাকা হয়নি। আমন্ত্রিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে এভাবে উপেক্ষা করায় তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসস্তোষ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি ও জামায়াত নেতারা তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ব্যাপারে জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল বলেন, মঞ্চে না ডাকার ঘটনা সঠিক। যেকারনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সকলেই চলে এসেছিলেন।
জেলা বিএনপির আহবায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন, এঘটনার পর জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব সাহেবের নেতৃত্বে আমরা সকলেই অনুষ্ঠান থেকে চলে এসেছি।
তবে, নেতাদের ক্ষোভ ও অনুষ্ঠান ত্যাগের বিষয়টি অস্বীকার করে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানান, রাজনৈতিক নেতারা কেউ অনুষ্ঠান ত্যাগ করে যাননি, সবাই শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ৪ জন শহীদ পরিবারের কাছে আমি এবং পুলিশ সুপার মহোদয় সম্মানি তুলে দিয়েছিলাম। আর আহতদের মাঝে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা সম্মানী তুলে দিয়েছেন।
এদিকে, জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন এই আয়োজনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে যথাযথ সম্মান না দেয়া এবং একতরফাভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনার ঘটনায় সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button