স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু

# একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ১২৩ জন, চলতি বছরে আক্রান্ত ২,৫৬৭ : মৃত্যু ১০
# খুমেক হাসপাতালে এনএস১ পরীক্ষা বিনামূল্যে, কিট-স্যালাইনের সংকট নেই #

কামরুল হোসেন মনি ঃ আবারও চোখ রাঙাতে শুরু করেছে ডেঙ্গু। খুলনা বিভাগে হঠাৎ বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু খুলনা জেলা ও খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন ১১৩ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৯ জন। তবে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৫৬৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১০ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯৮ জন। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসায় প্রস্তুতি নিচ্ছে হাসপাতালগুলো।
খুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কিট ও নরমাল স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষা করা হচ্ছে সরকারি নির্ধারিত ১০০ টাকায়।
খুমেক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. হোসাইন আলী বলেন, কয়েকদিনের তুলনায় বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী তুলনামূলক বেশি ভর্তি হচ্ছেন। যেদিন যে মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি নেওয়া হয়, ওই ওয়ার্ডেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের সুরক্ষার জন্য মশারি টাঙিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও নরমাল স্যালাইনের কোনো ঘাটতি নেই।
একদিনে পরীক্ষায় ৮ জনের ৬ জনই পজিটিভ :
খুমেক হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের ল্যাব ইনচার্জ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. মেফতাহুল ইসলাম বলেন, শনিবার (৮ আগস্ট) ইনডোরে ভর্তি আটজন রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ছয়জনের ফল পজিটিভ এসেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ১৪ জনের পরীক্ষা করে তিনজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তিনি জানান, বর্তমানে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি ও বহির্বিভাগের রোগীদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় এনএস১ অ্যান্টিজেন ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। আর আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার জন্য সরকারি নির্ধারিত ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই ডেঙ্গু পরীক্ষায় এক-দুজন রোগীর পজিটিভ ফল পাওয়া যাচ্ছে।
খুলনায় একদিনে ভর্তি ৬৪ :
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের ৮ আগস্টের ডেঙ্গু পরিস্থিতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা জেলার সরকারি হাসপাতালে ৪০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২৪ জনসহ মোট ৬৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৯ জন, যশোরে সাতজন, কুষ্টিয়ায় দুজন এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
আক্রান্তে শীর্ষে বাগেরহাট :
চলতি বছরে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাগেরহাট। জেলাটিতে এ পর্যন্ত ৭৮১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। খুলনা জেলায় ৫৯০ জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৩৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া যশোরে ২৭৭ জন, নড়াইলে ১২৫ জন, মাগুরায় ৭১ জন, মেহেরপুরে ৫৭ জন, কুষ্টিয়ায় ৫৬ জন, ঝিনাইদহে ৩৭ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯ জন এবং সাতক্ষীরায় সাতজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মৃত্যু ১০, চিকিৎসাধীন ২৯৮ :
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে খুলনা বিভাগে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নয়জন এবং বাগেরহাটে একজন মারা গেছেন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ২ হাজার ২২৪ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছে ৩৫ জনকে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯৮ জন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন জানান, বর্তমানে খুলনা জেলায় ৮৯ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১২ জন, বাগেরহাটে ৫০ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, যশোরে ১৫ জন, ঝিনাইদহে চারজন, মাগুরায় পাঁচজন, নড়াইলে ১১ জন, কুষ্টিয়ায় চারজন এবং মেহেরপুরে পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা নতুন করে বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আক্রান্ত রোগীদের মশারির মধ্যে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ডেঙ্গু শনাক্তে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button