নগরীতে রোপনকৃত গাছের চারা রক্ষায় কেসিসি কঠোর অবস্থানে

# পাঁচ খামারীকে করা হয়েছে নোটিশ; করা হচ্ছে খোয়াড়
স্টাফ রিপোর্টারঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন পাঁচ বছরে ৫০ হাজার গাছের চারা রোপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় কেসিসি নগরীতে বৃক্ষরোপন করছে। তারা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপন করছেন। প্রতিটি গাছের পিছনে খরচ হচ্ছে মোট ১৪৫ টাকা। তার মধ্যে গাছ প্রতি ৯-৩০ টাকা, বাঁশের চটা বাবদ ১২ টাকা করে ৩৬ টাকা, নেট বাবদ ৪০টাকা, শ্রমিক ৪০ টাকা। একটি গাছ লাগাতে কেসিসির মোট খরচ হচ্ছে ১৪৫ টাকা। তবে এ গাছ রোপন করলে তা টিকছে না। কারণ নগরীতে প্রচুর বেওয়ারিশ গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ ছুটে বেড়াচ্ছে। তারা সুযোগ পেলেই রোপনকৃত গাছেল চারা খেয়ে ফেলছে। এসব বেওয়ারিশ পশুর খামারিদের তালিকা করেছে কেসিসি। তাদেরকে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু পশু বেধে লালন পালন করার জন্য একাধিকবার সুপারিশ করেছেন। কিন্তু অধিকাংশ খামারিরা বিষয়টি আমলে নেয়নি। তাই কেসিসি তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় পাঁচজন খামারিকে নোটিশ দিয়েছে। গত ২৯ আগস্ট থেকে এ কার্যক্রম কেসিসি শুরু করেছে। ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস এ নোটিশ দেন। নোটিশপ্রাপ্ত খামারিরা হলো নগরীর ২৮নং ওয়ার্ডের দারোগার বস্তি বালুর মাঠ এলাকার মোঃ নিলু, খালিশপুর পাওয়ার হাউজগেট সাহিদুল, একই এলাকার ফারজানা, পিপলসগেটের পারুলী, একই এলাকার আঃ হক হাওলাদার ও একই এলাকার কাঞ্চন আলী। ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, “আপনি/আপনারা মহানগরী এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন কর্ম এর অংশ হিসাবে কেসিসি’র ১৮০ দিনে রোপিত ৫০ হাজার বৃক্ষ রোপন করায় মহানগরীর অভ্যন্তরে অবাধে গবাদি পশু (পশু গরু/ছাগল/ভেড়া) পালন করে ক্ষতিসাধন করছেন। যার ফলে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় আইল্যান্ডের উপরে রোপনকৃত গাছ খেয়ে ফেলছে। রাস্তার উপর গবাদি পশুগুলো শুয়ে থাকে। যার ফলে যানবাহন চলাচলসহ জনসাধারণের চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় রাস্তায় চলাচলরত যাবাহন দূর্ঘটনার কবলে পড়ছে। বিধায়, সিটি কর্পোরেশন আইনের ৫ম তফশিলের ৯২ ধারা এর ৯ ও ৬২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দন্ডনীয় অপরাধ বলিয়া গন্য হবে। এছাড়াও ৩য় তফশিলের ধারা ৪১ এর ১৫(৩) হতে ১৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উক্ত ছেড়ে রাখা গবাদি পশু কেসিসি’র খোয়াড়ে আবদ্ধ রাখিয়া উল্লিখিত ধারা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাই এই ধরনের অনাকাঙ্খিত কর্মকান্ড থেকে বিরত থেকে নিজের পোষ্য প্রাণী/গবাদি পশু নিজ দায়িত্বে লালন-পালনের জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।”কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুু বলেন, নগরীতে রোপনকৃত গাছের চারা রক্ষায় ছেড়ে দিয়ে আর গরু ছাগল লালন পালন করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে খামারিদের সাথে বসা হবে। এরপরও যদি তারা না শোনে তাহলে খোয়াড়ের ব্যবস্থা করা হবে।


