স্থানীয় সংবাদ

খুলনার প্রবাহ অফিসে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগের শেষ নেই !

# মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীদের সেই সন্ত্রাসীদের হুমকি-ধামকি
# মানববন্ধন থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবি

স্টাফ রির্পোটার : মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র কেডিএ এভিনিউ সংলগ্ন দৈনিক প্রবাহ অফিসে অনুপ্রবেশ করে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের একাধীক অভিযোগের প্রমান মিলেছে। ভুক্তভোগীরা প্রাননাশের ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ, থানায়ও তাদের বিরুদ্ধে একাধীক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারী ও সন্ত্রাসীরা সম্প্রতি সময়ে গভীর রাতে শহরের তার চুরি, কর্মব্যস্ত নগরবাসীর পাকির্ং করে রাখা মোটরসাইকেল নিয়ে হঠাৎ উধাও যাওয়ার অপরাধে সম্পৃক্ত থাকাসহ নানা অপরাধ কর্মকা-ে লিপ্ত রয়েছে। একটি সূত্র বলছে, একটি অদৃশ্য মহলের ছত্রছায়ায় থেকে এরা এতোটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে যে, প্রকাশ্যে পুলিশের নাকের ডগায় বসে দীর্ঘদিন ধরে বুক ফুলিয়ে এই অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অন্ধ ক্ষমতার জোরে এরা দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার মতো একটি স্বাধীন গণমাধ্যম অফিসে প্রবেশ করে, স্টাফদের মারধর করতে দ্বিধাবোধ করেনি। গত, ৯ আগস্ট তারা প্রবাহ অফিসে ঢুকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়। ওই ঘটনায় খুলনায় সর্বস্তরের কর্মরত সাংবাদিক, নাগরিক নেতা, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। তারা প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার (১২ আগষ্ট) সকালে প্রবাহ অফিসের সামনে প্রতিবাদী মানববন্ধন করেন । তারা জানান, সাংবাদিকতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। গণমাধ্যমের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করতে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা কিংবা হেনস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকা- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার এবং আইনের শাসনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তারা মানববন্ধনে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি, সস্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল বস্তি উচ্ছ্বেদ, হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এদিকে, হামলার ঘটনায় প্রতিবাদী মানববন্ধন শেষ হতে না হতেই ওই সন্ত্রাসীরা মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীদের হুমকি-ধামকি দেওয়া শুরু করেছে। এমনকি তারা বিভিন্ন মহলে কথা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে মার্ডার করলে কি হয়, ৩ মাস পরে জামিনে বেরিয়ে আসবো। হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ মামলার পর থেকে অদ্যাবদি এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। অথচ বাকী আসামীরা ঘরে বসে দিব্য আরাম আয়েশে দিন কাটিয়ে চললেও পুলিশের চোখে তারা আত্মগোপনে রয়েছে। একটি স্বাধীন গণমাধ্যম অফিমে ঢুকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে পালিয়ে যাওয়া আসামীদের আটকে পুলিশের রহস্যজনক নীরব ভূমিকা সাংবাদিক সমাজসহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গকে ভাবিয়ে তুলছে। তথ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রবাহ পত্রিকা অফিসে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একাধীক অভিযোগ থাকলেও ভয়ে কেউ উহ্ শব্দটুকু করে না। ওই সংঘবদ্ধ মাদকাসক্ত, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে না প্রকাশ না শর্তে এক ব্যবসায়ী তার দোকানের মালামাল চুরি অভিযোগে গত, ৪ এপ্রিল সোনাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওই ব্যবসায়ী জানান, নাম বলতে ভয় লাগে। নাম বললে জীবন হারাবো নাকি। একদল মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ী, চুরিসহ নানা অপরাধে লিপ্ত অপরাধীরা আমার দোকানের ভেতরে ঢুকে মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। পুলিশ অবগত করে থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ কোনো রহস্য উদঘাটনসহ আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারি নাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, অজ্ঞাত চোরচক্রের সদস্য দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে একই থানায় জিডি করেন। তিনি জিডিতে জানান, ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই রাতে আমার চা-কফির দোকানো সার্টার ভেঙে নগদ টাকাসহ মালামাল চুরি করে পালিয়ে যায়। জিডি করা হলেও প্রশাসন এঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পারেনি।
সার্বিক বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গণমাধ্যমের অফিসে সন্ত্রাসীদের হামলা এটা কোনোভাবে কাম্য নয়। মামলার পর ইতোমধ্যেই জড়িত এক আসামীকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারে আমাদের একাধীক টিম কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা। প্রবাহ পত্রিকা অফিসে হামলাকারী ও সন্ত্রাসীরা গভীর রাতে শহরের তার চুরি, কর্মব্যস্ত নগরবাসীর পাকির্ং করে রাখা মোটরসাইকেল নিয়ে হঠাৎ উধাও যাওয়ার অপরাধে সম্পৃক্ত থাকাসহ নানা অপরাধ কর্মকা-ে জড়িতদের বিরুদ্ধে এমন একাধীক অভিযোগ থাকলেও তারা পুলিশের ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে কি ভাবে, পুলিশের প্রতি এ প্রশ্নের উত্তরই এক সময়ের দাবি। উল্লেখ্য, গত ৯ আগষ্ট রোববার দিবাগত রাতে সন্ত্রাসীরা দৈনিক প্রবাহ পত্রিকা অফিসে প্রবেশ করে স্টাফদের মারপিট ও হামলার ঘটনা ঘটায়। ওই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে সংশ্লিস্ট থানায় মামলা রুজু করা হয়। সর্বশেষ পুলিশ ওই ঘটনায় এক আসামীকে গ্রেপ্তার করে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button