স্থানীয় সংবাদ

সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়ে শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে : মাস্টার শফিকুল আলম

# শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা অঞ্চল বৈঠক #

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক সাবেক কাউন্সিলর মাস্টার শফিকুল আলম বলেছেন, “স্বাধীনতার পর থেকে শ্রমিক নেতৃত্বে যারা ছিলেন, তাদের অভিজ্ঞতা শ্রমিকদের জন্য কখনোই শুভকর ছিল না। সরকার যখন শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখন যেসব শ্রমিক নেতাকে আলোচনার জন্য উপযুক্ত মনে করা হয়, তারা বারবার শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। সর্বশেষও সরকারকে প্রভাবিত করে শ্রমিকদের জন্য সাড়ে ১২ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি শ্রমিকের মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। বর্তমান বাজারমূল্যে সাড়ে ১২ হাজার টাকা একটি ছোট পরিবারের জন্যও ন্যায়সঙ্গত নয়।” তিনি বলেন, “শ্রমিকদের জন্য যে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়ন হবে, তা আমাদের ধারণ করতে হবে এবং সেই নীতিমালা প্রণয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারের নীতিনির্ধারণে আমাদের চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরে যথাযথ অবদান রেখে এবং শ্রমিক নেতৃত্বের অগ্রভাগে থেকে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “সারা দেশে আমাদের যে বিশাল জনশক্তি রয়েছে, শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়নে তা কাজে লাগাতে হবে। সত্যিকার অর্থে আমরা যদি এই জনশক্তিকে শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং সেক্টরগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে পারি, তাহলে গোটা শ্রমিক সেক্টরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।” তিনি বলেন, “সাংগঠনিক শক্তি বাড়িয়ে শ্রমিকের অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অধিকার লঙ্ঘিত হলে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।” শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর খালিশপুর বিআইডিসি রোডস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা অঞ্চলের উদ্যোগে অঞ্চল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কর্মসংস্থান সম্পাদক ও খুলনা অঞ্চল সহকারি পরিচালক খান গোলাম রসুল এর পরিচালনায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন খুলনা অঞ্চল সহকারি পরিচালক মো. আজিজুর রহমান ও টিম সদস্য মো. আলফিদা হোসেন, খুলনা মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী ও সেক্রেটারি ডা. সাইফুজ্জামান, সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি অধ্যাপক সুজায়েত আলী ও সেক্রেটারি আব্দুল গফফার, খুলনা জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ গাওসুল আযম হাদী ও সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন, বাগেরহাট জেলা সভাপতি মু. আবুল কাশেম ও সেক্রেটারি মো. শহিদুল ইসলাম, মো. আবু হুরায়রা, মো. রবিউল ইসলাম, শেখ আনিসুর রহমান প্রমুখ। বিগত সরকারের সময়ে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ ছিল না উল্লেখ করে খুলনা অঞ্চল পরিচালক শফিকুল আলম বলেন, বিগত স্বৈরাচারের আমলে আমরা কথা বলতে পারিনি। আজ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাই আমরা কথা বলছি। অধিকার আদায়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হবো। আমরা কথা বলেই যাব। জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না।
শ্রমিকদের স্থায়ী সমস্যা সমাধানে ইসলামী শ্রমনীতির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ দেশের শ্রমিক শোষিত, নির্যাতিত ও অধিকারহারা। আমরা দুনিয়ার কোনো নির্দিষ্ট নীতি-আদর্শকে সামনে রেখে কথা বলছি না। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মনে করে, শ্রমিকের স্থায়ী সমস্যার সমাধান করতে হলে, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হলে এবং বৈষম্য থেকে শ্রমিকদের মুক্ত করতে হলে ইসলামের শ্রমনীতি দিয়ে বাংলাদেশের শ্রম আইন গঠন করতে হবে। এর মাধ্যমেই শ্রমিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, দুনিয়ার মজদুর এক হওÑএই স্লোগান দিয়ে যারা শ্রমিক আন্দোলন করেছেন এবং শ্রমিকদের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে পারেননি। মানুষের মনগড়া কোনো আইন দিয়ে শ্রমিক সমস্যার সমাধান হতে পারে না। শ্রমিক সমস্যার সমাধান হবে আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে হজরত মুহাম্মদ (সা.) যে শ্রমিক সমস্যার সমাধান করেছেন, সেই নীতির মাধ্যমে। অর্থাৎ ইসলামী শ্রমনীতিই হতে পারে শ্রমিক সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button