খুলনা বিভাগে একদিনে ১৯০ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ১৯০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) দপ্তরের ২ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ১৯০ রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৬৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ২৩ জন ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। জেলা ও হাসপাতালভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২ জন। এছাড়া বাগেরহাটে ১৫, সাতক্ষীরায় ৮, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫, যশোরে ১৩, ঝিনাইদহে ৫, মাগুরায় ৫, নড়াইলে ১৪, কুষ্টিয়ায় ২ এবং চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬ হাজার ২৮৪ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৭৩ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া এ পর্যন্ত ১৫৩ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার্ড করা হয়েছে।
জেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি ও চিকিৎসাধীন রয়েছেন খুলনায়। চলতি বছরে খুলনা জেলায় মোট ২ হাজার ২১৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে, সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮২৭ জন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৮০ জন। অন্যদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরে মোট ১ হাজার ৪৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ১৯৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে বাগেরহাটে চলতি বছরে মোট ১ হাজার ১২৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জেলাটিতে ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে ৮৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বিশেষ করে খুলনা ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি থাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। চলতি ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে মৃত্যুহার শূন্য থাকলেও বিপুলসংখ্যক নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।



