মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু : মারধরের অভিযোগে ৩ শিক্ষক আটক

নড়াইল প্রতিনিধি ঃ নড়াইল সদর উপজেলার একটি আবাসিক মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষকদের পিটুনিতেই ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মৃত শিক্ষার্থীর নাম সৈয়দ সুলায়মান হোসেন (১৩)। সে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ ইকরাম আলীর ছেলে এবং আউড়িয়া এলাকায় অবস্থিত ‘মারকাযুল কুরআন নড়াইল’ মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুলায়মান দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে মাদ্রাসাটিতে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করে আসছিল। বুধবার ভোরে সুলায়মান অসুস্থ হয়ে পড়েছে জানিয়ে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে পরিবারে খবর পাঠানো হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বজনরা এসে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে যশোর নেওয়ার পথে বিকেল ৩টার দিকে সুলায়মানের মৃত্যু হয়। সুলায়মানের মৃত্যুর পর শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তোলে পরিবার। নিহতের বাবা সৈয়দ ইকরাম আলী বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আসরের সময় ছেলের সঙ্গে দেখা করে নামাজ পড়েছি। তখন সে পুরোপুরি সুস্থ ছিল। রাতে মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাকে মারধর করেছে। বুধবার ভোরে অসুস্থ হলেও তারা আমাদের সকাল ১০টার দিকে জানিয়েছে, ততক্ষণে ছেলে বেহুঁশ। হাসপাতালে নেওয়ার পর ও কিছু একটা বলতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি। আমার ছেলেকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে, আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। মারধরের অভিযোগ ওঠায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে আটক করেছে। তারা হলেন- ইউসুফ হায়দার (৩৭), হাসিবুর রহমান (৩০) ও ফাহাদ শেখ (৩২)। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসার মুহতামিম (অধ্যক্ষ) মাওলানা নাজমুস সাহাদাত আল মামুন। তিনি দাবি করেন, বুধবার সকালে এক শিক্ষক সুলায়মানকে শুয়ে থাকতে দেখে কারণ জানতে চান। সে গলাব্যথা ও টনসিলের কথা বলে। পরে শরীর ব্যথার কথা জানালে তাকে গরম পানি ও একটি প্যারাসিটামল (নাপা) দেওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে অবস্থার অবনতি দেখে পরিবারকে খবর পাঠানো হয়। তাকে কোনো প্রকার মারধর করা হয়নি, সে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রকিবুল হাসান জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে হেফাজতে নেওয়ার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কু-ু বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



