মসজিদের ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগের নেপথ্যে পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত শত্রুতা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মসজিদের সরকারি ভাতার টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগের নেপথ্যে পারিবারিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত শত্রুতা। এ নিয়ে ইউএনও বরাবর অভিযোগ করা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে প্রতিটি ইউনিয়নে ১৪ টি মসজিদ তালিকাভূক্তির জন্য যাচাইবাছাই চলছে। যার অনুমোদন ই হয়নি। সুতরং আত্মসাত তো আরও পরের কথা প্রনোদনা বা সম্মানি ভাতা অনুমোদনের আগে আসার কোন সুযোগ নেই। সম্প্রতি পুটিখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পুটিখালী বায়তুন আমান জামে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের সরকারি ভাতার টাকা উত্তোলন নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মসজিদের সাবেক মুয়াজ্জিন আব্দুর রব হাওলাদার মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়রা দাবি করেন, মসজিদ কমিটির সভাপতির সঙ্গে তাঁর পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে তাঁকে একটি মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অভিযোগ তুলেছে। মসজিদের মুসল্লি আ: সালাম হাওলাদার, বাবুল হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও জয়নাল হাওলাদার জানান, মাওলানা নাজির, ওই মসজিদের নিয়মিত খতিব ও ইমাম। মসজিদ কমিটির অনুমোদিত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম রয়েছেন। তারা আরও বলেন, মসজিদের ভাতা নিয়ে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই করা হয়েছে।” যারা মসজিদ কমিটির সদস্য দাবী করে অভিযোগ করেছে, তারা পূর্বের কমিটির পূরনো সদস্য বলে দাবী করেন মুসল্লিরা। অভিযোগকারির ছেলে লুৎফর হাওলাদার বলেন, আমার বৃদ্ধা বাবাকে ভূল বুঝিয়ে পূর্ব শত্রুতা মেটাতে মসজিদের সরকারি ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ করানো হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অজিয়ার রহমান বলেন, যারা অভিযোগ করেছে তারা কেউ এই মসজিদের মুসল্লিও না। তাদের সাথে দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর শত্রুতা মেটাতে মসজিদকে ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদের সভাপতি আতিয়ার সজল জানান, মসজিদ নিয়ে ঘৃন রাজনিতি হতে পারে এটা আমার জানা ছিলো না। আমরা সকল নিয়ম মেনে ই ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নিয়োগ দিয়েছি। এটা নিয়ে একটা গ্রুপ তাদের শত্রুতা মেটাতে হীন রাজনিতি খেলায় মেতে উঠেছে। যা এলাকার ধর্মপ্রান মানুষকে ব্যাথিত করেছে। এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাবিবুল্লাহ জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে ১৪ টি মসজিদ তালিকাভূক্তির জন্য যাচাইবাছাই চলছে। যার অনুমোদন ই হয়নি। সুতরং আত্মসাত আসে কোথা থেকে, এটা আমার বোধগম্য নয়। তিনি আরও বলেন, আমার জানামতে প্রনোদনা বা সম্মানি ভাতা কিছুই আসে নাই। এটা অনুমোদনেরল আগে আসার কোন সুযোগ নেই। সুতরং এ নিয়ে তদন্ত বা খতিয়ে দেখার কিছু নেই।



