স্থানীয় সংবাদ

নগরীর খালিশপুরে ব্যবসায়ীর নিকট থেকে দেড় কোটি টাকা নিয়ে প্রতারক লাপাত্তা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ নগরীর খালিশপুরে এক প্রতারক ব্যবসায়ী পাটনার সেজে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর নিকট থেকে দেড় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারক মোঃ লাল চাঁনকে (৪৩) আসামী করে ৩ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ খান তপু বাদী হয়ে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। লাল চান পিরোজপুর জেলার মঠ বাড়িয়া থানার ছোট মাছুরা গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ফারাজির ছেলে। গত ২৬ জানুয়ারী ’২৬ থেকে ২৩ আগস্ট সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই তন্ময় দে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়,“আমি আব্দুল্লাহ খান তপু, পিতা-মোঃ ইন্তাজ খান, মাতা-জরিনা খানম, থানা-দিঘলিয়া, খুলনার বাসিন্দা। প্রতারক মোঃ লাল চাঁনের বিরুদ্ধে এই মর্মে এজাহার দায়ের করছি, আমি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। আসামী লাল চাঁন আমার পূর্ব পরিচিত এবং আমাদের এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ পানির ব্যবসা করে আসছিল। এক পর্যায় আসামীর সাথে আমার ভালো সম্পর্ক হওয়ায় আসামীর ব্যবসা বড় করার স্বার্থে তার ব্যবসায়ী পার্টনার করার চুক্তিতে উল্লেখিত ঘটনাস্থলে বসে আমার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ষোল লক্ষ টাকা নেয়। উক্ত চুক্তিপত্রের শর্তে বিবাদীর সাথে আমার চুক্তি হয় যে, ব্যবসায়ী লাভের ৬০% অংশ আমার ও বাকি ৪০% অংশ আসামীর মর্মে উল্লেখ করা হয়। ব্যবসা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং পানি ও গ্যাস সরবরাহের কাজে ব্যবহারের জন্য একটি মিনি ট্রাক, ইঞ্জিন চালিত চারটি ভ্যান ও দু’টি ইজিবাইক ক্রয়ের জন্য আমার নিকট থেকে আরো বিশ লক্ষ টাকা নেয়। এছাড়া গ্যাসের বোতল ও পানির বোতল ক্রয়ের জন্য চৌদ্দ ‘লক্ষ টাকা নগদ নেয়। উক্ত আসামী গ্যাস ও পানির সরবরাহের ব্যবসা পরিচালনার জন্য আসামী মোঃ লাল চাঁন আমার নিকট থেকে সর্বমোট পঞ্চাশ লক্ষ টাকা নেয়। উক্ত চুক্তিপত্রের উপর ভিত্তি করে আসামী আমাকে সর্বমোট বত্রিশ লক্ষ টাকার ৫টি চেক প্রদান করে। প্রথমে আসামীর সাথে ব্যবসায়ী লেনদেন ভালোই চলছিল। গত ২৩ আগস্ট’২৬ বিকেলে ৪ টায় আসামীকে তার ব্যবহৃত মোবাইল কল করলে মোবাইল ফোনটি বন্ধ দেখায়। পরবর্তীতে আসামীর বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি আসামী ১নং সাক্ষী তার অন্যান্য ব্যবসার পার্টনার। এছাড়া আরো জানতে পারি আসামী আমার টাকাসহ অত্র থানা এলাকা থেকে নুর আলম টনি, আলাউদ্দিন, পানি সরবরাহকারী মোশারফ, পানি সরবরাহকারী শহিদুল গফুর, ইঞ্জিনিয়ার রয়সহ বিভিন্ন মানুষকে ব্যবসায়ী প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা প্রতারণা করে নিয়ে পালিয়ে যায়। আসামী আমার এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রতারণামূলকভাবে সর্বোমোট এক কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আসামী পরবর্তীতে আসামী লাল চাঁনকে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজা-খুঁজি করে না পাওয়া যায়নি।” এ ঘটনার পর প্রতারিক ব্যবসায়ীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছে। ব্যবসায়ী তপু খান বলেন, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এ প্রতারকের খপ্পড়ে পরে আজ সর্বস্ব খুয়েছি। ”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button