স্থানীয় সংবাদ

সংস্কারের অভাবেই বেহাল দশা ওড়াতলা ব্রিজের : দুর্ভোগে ৪ গ্রামের মানুষ

অবহেলিত একটি জনপদের নাম কয়রা- (৯)

রিয়াছাদ আলী, কয়রা (খুলনা) ঃ খুলনার কয়রা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর কয়রা গ্রামের খালের ওপর নির্মিত ওড়াতলায় সেতুটি ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুপাড়ের মানুষ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, কয়রা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর কয়রা খালের ওপর ওড়াতলা হাফিজিয়া মাদরাসা সংলগ্ন নির্মিত সেতুটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতুর দুই পাশে নেই কোনো রেলিং। বেশির ভাগ পিলারের পলেস্তরা উঠে গেছে এবং সেতুটির মাঝখানে ভেঙে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বাঁশের সাঁকো বেধে পার হচ্ছে ৪ গ্রামের হাজারও মানুষ সহ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। যেকোনো সময় পুরা সেতুটি ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে এলজিইডি এই সেতুটি নির্মাণ করে। গত ৬ বছর আগে থেকে চলার অনুপোযোগী হয়ে পড়ে সেতুটি। ২ নম্বর কয়রা গ্রামের শিক্ষক ওয়াজেদ আলী বলেন, সেতু দিয়ে বৃদ্ধ ও শিশুদের মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। সেতু দিয়ে পারাপারের সময় অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। স্কুলে ছেলে-মেয়েদের পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় তাদের। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূর্বের স্থলে একটি সেতু নির্মাণের। কয়রা সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুম বিল্লাহ বলেন, ২ নম্বর কয়রা ও ওড়াতলা হাফিজিয়া মাদরাসার সামনে ১৯৯৬ সালে খালের ওপর সেতুটি নির্মিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি নির্মাণের কোনো লক্ষণ নেই। জনমনে আতঙ্ক আর ঝুঁকি নিয়ে সেতুর পাম দিয়ে বাশের সাকো তৈরী করে প্রতিদিন হাজারও মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সেতুটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্রিজটি না থাকায় পুরো এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে। ভ্যান, ইজিবাইক কিংবা পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষিপণ্য ও মৎস্য ঘেরের মাছ বাজারজাত করতে দ্বিগুণ খরচ গুনতে হচ্ছে স্থানীয়দের। স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন, ১৯৯৬ সালে ব্রিজটি নির্মাণের সময়ই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই আজ আমাদের এই দুর্ভোগ। ৬ বছর ধরে এভাবেই ভেঙে পড়ে আছে। এরপর নিজেরা টাকা তুলে বাঁশের সাকো তৈরি করে চলাচল করতে হচ্ছে। কয়রা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এসএম লুৎফর রহমান বলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৪ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থলে নির্মিত সেতুটির ওপর দিয়ে পাশে ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জনসাধারণের কয়রা সদরে আসতে হয়। ওই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে চলাচলের সময় ভয়ে থাকতে হয়। কখন যেন এটি ভেঙে পড়ে। এমন শঙ্কা নিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। কয়রার এলজিআরডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সেতুটি পুনর্নির্মাণ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, সেতুটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button