স্থানীয় সংবাদ

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে প্রায় দুই কোটি টাকার জমি উদ্ধার দখলমুক্ত জমিতে আধুনিক মার্কেট নির্মানের দাবী স্থানীয়দের

মণিরামপুর পৌর কর্তৃপক্ষের বিশেষ অভিযানে..

মোঃ আব্বাস উদ্দীন, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধিঃ মণিরামপুর পৌর কর্তৃপক্ষের বিশেষ অভিযানে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে প্রায় প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। যশোরের মণিরামপুর প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেল হতে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। মণিরামপুর পৌরশহরের মেইন ফটকে যশোর-রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়ক সংলগ্ন সরকারি এই মূল্যবান জমি উদ্ধার করে সর্বমহলের প্রশংসা পাচ্ছেন পৌর প্রশাসক ও ইউএনও মোঃ স¤্রাট হোসেন। উদ্ধারকৃত জমিতে উপজেলা প্রশাসনের অধীন বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক মার্কেট নির্মানের দাবী করেছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, মণিরামপুর পৌর এলাকার ১০০ নম্বর দূর্গাপুর মৌজার ৫৩ দাগে এক খতিয়ানভূক্ত ১৮.৩৫৬ শতক জমির মধ্যে প্রায় ১১ শতক জমি ১৯৮৩ সালে পাবলিক লাইব্রেরী ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে সরকার বন্তোবস্ত দেয়। বাকী ৭ শতক জমি প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করেন। বর্তমানে এই জমির বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। যা মণিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরীর নামে সরকার বন্দোবস্ত দিলেও প্রভাবশালীদের বাঁধায় প্রতিষ্ঠানটি দখলে নিতে পারেনি। ১৯৯৬ সালে একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রচ্ছায় আগে থেকে অবৈধভাবে স্থাপিত দোকানমালিকরা (একসনের নামমাত্র ডিসিআর নিয়ে) প্রায় সাত শতক সরকারি জমি দখলে নেয়। মহাসড়ক পাশে পৌর শহরের মেইন ফটকে মূল্যবান এই জমির ওপর দোকানপাট এবং পিছনে মুরগী ও মাংসের দোকানপাঠ গড়ে উঠে। কিন্তু জনভোগান্তি দুর করতে পৌর শহরের নাগরিকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই একসনের ডিসিআর বাতিল করেন জেলা প্রশাসক।
দীর্ঘ তিন দশক যাবত অবৈধ দখলমুক্ত জমিতে পৌর মার্কেট নির্মান করা হবে এমন পরিকল্পনার কথা পৌর কর্তৃপক্ষ জানানোর পর থেকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন মমার্কেট নির্মানের দাবি করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবী, উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা কাজে আসা নাগরিকদের মোটরসাইকেলসহ হালকা যানবাহনের নিরাপদ পার্কিং-এর ব্যবস্থা নেই। যে কারনে সম্ভাব্য পৌর মার্কেটের নিচে আন্ডার গ্রাউন্ডের ব্যবস্থাসহ লিপট সুবিধা দাবি করেছেন। এছাড়া পৌর মার্কেটের প্রতিটি ফ্লোরে একেক ধরনের পণ্যের দোকান বরাদ্দ হলে এক মার্কেটেই কেনাকাটার নানাধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন ক্রেতারা।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর ওই জমির একটি অংশ পুনরায় দখলে নিয়ে পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর সেখানে টিনসেডের দোকানঘর নির্মান করে অগ্রীম টাকা নিয়ে ভাড়া দেয়। ৫ আগস্টের পর ওই ঘরগুলো আর একটি পক্ষ দখলে নিয়ে ভাড়া দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার স¤্রাট হোসেন জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যের সম্মতিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদপূর্বক জমি উদ্ধারের সিদ্ধান্ত হয়। তবে মানবিক দিক বিবচনা করে মুরগী ও মাংস ব্যবসায়ীদের মাছ বাজারের দুইতলায় পুর্নবাসনের সিদ্ধান্ত হয় বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button