স্থানীয় সংবাদ

প্রকাশ্য দিবালোকে বসতবাড়ীর তালা ভেঙ্গে মুল্যবান মালামাল, দলিলপত্র ও কাগজপত্র লুট করার অভিযোগ

বাগেরহাটে শিশু সন্তান নিয়ে নারীর সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাট প্রতিনিধি ।
বাগেরহাটে প্রকাশ্য দিবালোকে একটি ৪তলা বসতবাড়ীর তালা ভেঙ্গে মুল্যবান মালামাল, দলিলপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লুটে নিয়েছে প্রতিপক্ষরা। গত সোমবার বিকেলে বাগেরহাট নতুন পুলিশ লাইনের পাশের বিসমিল্লাহ মাদ্রাসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটলেও কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে নাই ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনা নিয়ে বাড়ীর মালিক লাবনী আক্তার তার দুই নাবালক ছেলে নিয়ে বুধবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও সংবাদ কর্মীদের প্রশ্নের উত্তরে লাবনী আক্তার বলেন, আমার স্বামী মাওলানা মুজিবর রহমান যুক্তিবাদী ২০২১ সালে করোনায় মারা যান। জীবদ্ধাশায় তিনি অনেক পরিচিত ছিলেন। তিনি বিসমিল্লাহ মাদ্রাসাসহ একাধিক মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইসলামী শরীয়া মোতাবেক তিনি আমাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসাবে বিবাহ করেন। আমার গর্ভেই তার দুটি সন্তান জন্মলাভ করে জীবিত আছে। তারা মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে। মারা যাওয়ার আগে অসুস্থ থাকাকালীন তিনি ২ স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য তার সকল সম্পত্তি নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে ওছিয়তনামা করে যান। সে অনুযায়ী বাগেরহাট সদরের রনবিজয়পুর এলাকায় তারই প্রতিষ্ঠা করা বিসমিল্লাহ মাদ্রাসা ও মার্কেট এবং ৪ তলা বসতবাড়ী আমাকে ও আমার দুই সন্তান কে দিয়ে যান। আর ঢাকার বাড়ী ও সম্পত্তি ১ম স্ত্রী ও সন্তানদের দিয়ে যান। অথচ, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর ১ম স্ত্রীর সন্তান ও আমার মেঝ দেবর কাজী বায়েজিদ আমাকে বাগেরহাটের সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। আর এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে আমি বাড়ীতে না থাকার সুযোগে দেবর কাজী বায়েজিদ আমার স্বামীর ১ম স্ত্রীর ছোট ছেলে এহসান উল্লাহ বহিরাগত সন্ত্রাসী ও মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে বসত ঘরের তালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে এবং ঘরে থাকা মুল্যবান মালামাল, দলিলপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যায়। আমার অবর্তমানে ১৫/২০ জন লোক অনধিকার প্রবেশ করায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয় এবং তাদের কে বাড়ীর প্রধান গেটে তালা দিয়ে আটকে দেয়। খবর পেয়ে আমি ও আমার আত্মীয় স্বজন এসে বিষয়টি থানা পুলিশ কে জানাই। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষনিক কাউকে আটক না করলেও আমি এ ঘটনায় লটকারীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেই। এর আগেও ৩/৪ বার আমার এ সম্পত্তি অবৈধভাবে জোর দখলের চেষ্টা করেছে ওই সন্ত্রাসীরা। সে ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে আদালতে মামলা করি। যে মামলা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সালিশ বৈঠকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন জোর জবরদস্তি করা যাবে না বলে সিদ্ধান্ত থাকলেও প্রতিপক্ষরা তা মানছেন না। তাই মাদ্রাসায় পড়–য়া আমার দুই নাবালক সন্তান নিয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button