দৌলতপুরে নিখোঁজ দিনমজুর রনি হত্যাকা-ে জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘আরমান’ শোনঅ্যারেস্ট

# মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানী শেষে এ নির্দেশ দেন বিচারক
# আসামীর বিরুদ্ধে একাধীক হত্যাসহ নানামুখি অপরাধে মামলা হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর মহেশ^রপাশা পশ্চিমপাড়া ঘোষপাড়া এলাকার মৃত: মোশারেফ হোসেনের ছেলে মনিরুল ইসলাম (রনি)’র হত্যাকা-ে সম্পৃক্ততা থাকায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে কেএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী, একাধীক হত্যাসহ নানামুখি অপরাধে সম্পৃক্ত একাধীক মামলার আসামী আরমান ওরফে আরমিন ওরফে দিপুকে শোনঅ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ নিয়েছেন বিচারক, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুফল রায়। গ্রেপ্তারকৃত খুলনার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী আরমান দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশা এলাকার আসাদুজ্জামান মিঠুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ একাধীক মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। এর আগে গত, ৬ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬ এর অভিযানিক দল। অতঃপর তার স্বীকারোক্তীতে দৌলতপুর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র উদ্ধার করে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে অভিযানিক দল। ওই অস্ত্র মামলায় আসামী আরমানকে আটক করে দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করেন এবং ওই মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত আসামী আরমানকে আদালতে সোর্পদ করে। এ বিষয়ে মামলার তদন্তাকারী কর্মকর্তা এসআই সুফল রায় জানান, কার্তিককূল এলাকায় নিখোঁজ যুবক হত্যাকা-ের তদন্তে আসামী আরমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। গত ৬ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬ এর সদস্যরা। তার স্বীকারোক্তীতে দৌলতপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে র্যাব-৬ এর সদস্যরা। ওই অস্ত্র মামলায় আসামী আরমানকে আদালতে সোর্পদ করা হয় এবং সর্বশেষ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে আসামীকে শোনঅ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। রনি হত্যা মামলায় আরমানকে প্রথম আসামী হিসাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলেও জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা। এছাড়া মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান আছে, বাকি আসামীদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুঃ মোরাদুল ইসলাম জানান, কার্তিককূল এলাকায় যুবক হত্যাকা-ের ঘটনায় একাধীক হত্যা মামলার আসামী আরমানের জড়িত থাকার সম্পৃক্ততা খুঁজে পাই। র্যাব-৬ এর সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে এবং স্বীকারোক্তীতে দৌলতপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করেন। ওই অস্ত্র মামলায় আসামী আরমানকে আদালতে সোর্পদ করা হয় এবং গতকাল শুনানি শেষে আদালত তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, দৌলতপুর থানাধীন বাইপাস সড়ক সংলগ্ন কার্তিককূল নাসিরের মাছের ঘের হতে ভাসমান অবস্থায় নিখোঁজের তিন দিন পর বুধবার (২৬ আগষ্ট) সন্ধ্যায় মনিরুল ইসলাম (রনি) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের গলায় রশি দিয়ে চেপে ধরার দাগ, পেট ফাঁড়া (নাড়ি-ভুড়ি বের হওয়া), দু’হাত ও পা পিঠমোড়া দিয়ে বাঁধা এবং বালি ভরা বস্তা হাতের সাথে বাঁধা অবস্থার ছিল। বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সকল আইনগত প্রক্রিয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করে নিহতের পরিববারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ, একই দিনের বাদ আসর মহেশ^রপাশা পশ্চিমপাড়া মোড় এলাকায় নিহতের জানাযা নামাজ সম্পন্নের পর সরকারি মহেশ^রপাশা (সাড়াডাঙ্গা) কবরখানায় দাফন সম্পন্ন হয়। শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) সকালে নিহতের মা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।



