খালিশপুর নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাাচন নিয়ে দিনভর উত্তেজনা

# ফ্যাসিস্টদের মারমুখী আচরণে ক্ষুব্দ নির্বাচন কমিশনার
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত খালিশপুর নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন নিয়ে দু’ পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টার সময় মার্কেট চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। ভয়ে ক্রেতারা দ্রুত বাজার ত্যাগ করে। পরিস্থিতি বেগতি দেখে নির্বাচন কমিশনার বাজার ছাড়তে বাধ্য হন।
গত ১৩ আগস্ট সমিতির কার্যালয়ে এক সভার মাধ্যমে পাঁচ সদস্যের আহবায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান হলেন, খালিশপুর থানা বিএনপির সভাপতি এড, মোহাম্মদ আলী বাবু, সদস্য হলেন, থানা বিএনপির সাঃ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিশ্বাস ও সদস্য শ্রমিকদল নেতা আবুল কালাম জিয়া। তিন বছর মেয়াদী নির্বাচন ২০২১ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু মেয়াদ শেষ হলেও নানা অজুহাতে বাজারের নির্বাচন না হওয়ায় বাজার পরিচালনার ক্ষেত্রে সংকট আরো বেড়েছে। বাজার পরিচালনা কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব আলমগীর সিদ্দিকী বলেন, তারা ইতোমধ্যে বাজারের খসড়া ভোটার তালিকা ( ৩৫৫) প্রস্তুত করে নির্বাচন কমিশনারের নিকট জমা দিয়েছেন। তা যাচাই বাচাই করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড. মোহাম্মদ আলী বাবু ও সদস্য আবুল কালাম জিয়া শনিবার বেলা ১১টার দিকে মার্কেটে আসেন। তারা যথারীতি দোকানে ঘুরে ঘুরে যাচাই করতে থাকেন। এমন সময় বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি ও আ’লীগ নেতা আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে তার লোকজন ভোটার যাচাই বাচাই কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। এমন কি তারা নির্বাচন কমিশনারের সথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এতে করে বাজারের সাধারণ ভোটাররা ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে। তখন আনোয়ার গংরা মারমুখী আচরণ করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতি দেখে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বাজার ত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে খালিশপুর থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় তারা আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান। সাধারণ ভোটার আরিফ জানান, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি খসড়া ভোটার যাচাই বাচাই কাজ করছিলেন। এমন সময় সাবেক সভাপতি আনোয়ার ও তার লোকজন এসে মাংস বিক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন,এরা বাজারে ভোটার নয়। তখন ব্যবসায়ীরা চাঁদা দেয়ার স্লিপ নির্বাচন কমিশনারকে দেখান। এ সময় সাধারণ ভোটারদের সাথে আনোয়ার, মামুন ও রিপনসহ ৭/৮ জন মারমুখী আচরণ করে। যা বাজারের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তোলে বলে তিনি জানান। বাজারের সাবেক সাঃ সম্পাদক আল আমিন জানান, আ’লীগের আমলে আনোয়ার ছিল এ বাজারের আতংক। সব কিছুই দলের ক্ষমতা দেখাত্।ো তিনি হলেন ১১নং ওয়ার্ড আ’লীগের নেতা। কথায় কথায় দলের নাম ভাঙ্গিয়ে বাজারের সাধারণ ব্যব্সায়ীদের ভয় ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করতেন। তার কাছ থেকে আনোয়ার ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নানা অজুহাতে চাাঁদাবাজি করেছে। টাকা ফেরৎ চাইতে গেলে বাজার থেকে উচ্ছেদসহ নানা ধরনের হুমকি দিত বলে তিনি জানান। তারমত এই চাদাবাজিতে শিকার বাজারের আরো অনেকে। যেমন সাধারণ ব্যবসায়ী সাখাওয়াত মুন্সির নিকট থেকে ২৬ হাজার টাকা, মনিয়ারের থেকে ১০ হাজার টাকা, গোলাম রহমানের নিকট থেকে ১৫ হাজার টাকা চাঁদাবাজি করে নিয়েছে আ’লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বলে তিনি দাবি করেন। বাজারের ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে দলের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিগত দিনে আনোয়ার একই পুরো বাজার নিজের দখলে রেখেছেন। তিনি কমিটির অন্য সদস্যদের পাত্তা দিতেন না। কাউকে হিসাব দেয়ার প্রয়োজন মনে করতেন না। নিজে টাকা উত্তোলন করতেন আর ইচ্ছামত খরচ করতেন। বাজারের আরেক সদস্য মোঃ সেন্টু বলেন, সভাপতি আনোয়ার কখনই নির্বাচনে পক্ষে ছিলেন না। নানা অজুহাতে নির্বাচন আটকে রাখতেন। সাধারণ ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের পর আনোয়ারের মাথা নস্ট হতে শুরু করে। তিনি অনেকটা খামিখেয়ালিভাবে আচরণ করতে থাকেন। হিসাব নিকাশ চাইলে তিনি তা দিতে রাজি হন না। তিনি নির্বাচন ভুন্ডুল করে ক্ষমতা কুক্ষিণগত করতে চান। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশনার ভোটার যাচাই বাচাই করতে বাজারে এলে আনোয়ার তা বাধা সৃষ্টি করে। পরে সাধারণ ব্যবসায়ীদের সাথে আনোয়ার গ্রুপের বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি খারাপ দেখে নির্বাচন কমিশনার বাজার ত্যাগ করতে বাধ্য হন। আনোয়ার চলমান নির্বাচন বন্ধ করতে এ নেক্কারজনক কাজটি করেছে বলে তিনি মনে করেন।
বাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য আবু সাঈদ মাস্টার জানান, ফ্যাসিস্ট আনোয়ার আ’লীগের পদ পদবি থাকার পরও পূর্বের মত সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখেছেন। শনিবার সকালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ঠান্ডা হওয়ার পর বিকেলে আনোয়ার গ্রুপরে লোক হিসেবে পরিচিত খাদিজা ওতার লোকজন আনোয়ারের পক্ষ নিয়ে বাজারের আহবায়কস কমিটির সদস্যদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বাজারের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি সব সময় সন্ত্রাস, চাদাবাজি ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে। এজন্য চক্রটি তার পিছনে লেগেছে। সকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অশান্ত করেছে তারা। তারা তার লেঅক মামুন, রিপনকে মারধর করেছে। তাকে যখন ধাওয়া দেয় তখন কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করলে দুর্বৃত্তরা সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা করে। খাদিজা একজন বাজারের ভোটার। তাকে আপা বলে ডাকি। এ জন্য তার ছেলে তাকে মামা ডাকতেই পারে। তিনি তাদের শেল্টার দেন না বলে জানান। তিনি গতকাল জুলুমে শিকার হয়েছেন। তিনি এর বিচার চান। আ’লীগ আমলে তিনি কখনও ক্ষমতার দাপট দেখাননি বলে নিজেকে নির্দোশ দাবী করেন। খালিশপুর থানার ওসি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তিনি দেখছেন বলে জানান। তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের একাধিকবার মোবাইল করলেও তারা মোবাইল রিসিভ করেনি।



