খুলনায় সাংবাদিককে না পেয়ে শিশু সন্তানকে থানায় নিয়ে গেলেন ওসি!

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার খানজাহান আলী থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় স্থানীয় দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল্লাহ তারেককে আটক করতে গিয়ে না পেয়ে তার শিশু সন্তানকে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে গিলাতলা দক্ষিণপাড়ায় বাসা থেকে হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী সন্তান মো. সিয়ামকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর তাকে সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনার নেতৃত্ব দেন খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার নিজেই। এমনকি শিশুটিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও গালিগালাজ এবং তার স্ত্রী এবং কন্যার সঙ্গেও চরম দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, শিশুটি কোনো মামলার আসামি নয়। তারপরও তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় রাখা হয়। থানায় অবস্থানকালীন তাকে তার পিতার নাম উল্লেখ করে অকথ্য ভাষায় তিরস্কার করা হয়। এরপর স্থানীয় সাংবাদিকরা এ বিষয়ে তৎপর হলে দীর্ঘ প্রায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় তার শিশু সন্তানকে সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক অভিযোগ করেন, মাদক কারবারি শাবানার নিকটাত্মীয় গরুর মাংস বিক্রেতা আরমান শেখ হঠাৎ করে গফ্ফার ফুড মোড়ে গরু জবাই করে বিক্রি করে, যার বর্জ্যতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল। গফ্ফার ফুড মোড় দোকান মালিক সমিতির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গফ্ফার ফুড মোড় দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমিসহ ৪জনের নামে মামলা দায়ের করেন। যা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক। তবে, থানার ওসি কোন ধরণের তদন্ত ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই অতি উৎসাহী হয়ে মামলাটি রেকর্ড করেন।
মূলত: এলাকায় মাদক বিরোধী অবস্থানের কারণে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে- উল্লেখ করে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তার শিশু সন্তানকে কেন থানায় নেওয়া হলো- এ প্রশ্ন করেন তিনি।
এ বিষয়ে খুলনা শিশু সুরক্ষা জোটের সভাপতি শামিমা সুলতানা শিলু জানান, সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের শিশু সন্তানকে আটকের তীব্র নিন্দা জানাই। শিশু মানে সে তার পরিচয় সে শুধু শিশু। তার বাবার দায় সে নেবে কেনো। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাশার শিশুকে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বলেন, শিশুটি সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান করেছে। তাই তাকে ধরে আনা হয়েছিল। তবে কি বাঁধা এবং তার পক্ষে কোন প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।
এদিকে, সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা এবং তার শিশু সন্তানকে আটক করে থানায় দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার ঘটনায় স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
অনুরূপভাবে গফ্ফার ফুড মোড় দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মামলা দায়েরের ঘটনায় সমিতির পক্ষ থেকেও তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।



