স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত

# অধিকার’র ৩২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে শনিবার (১০ অক্টোবর) খুলনায় মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’র ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশে সাম্য, সুশাসন ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অধিকার-এর আপোসহীন সংগ্রামের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। দৈনিক আমার দেশ খুলনা ব্যুরো অফিসে এ সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধিকার খুলনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব ও দৈনিক ‘আমার দেশ’-এর খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, সাংবাদিক ও কলামিস্ট অধ্যক্ষ ড. ফোরকান আলী প্রিন্স এবং ফিশ ফার্ম অনার্স এ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ, ফোয়াবের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান শাহীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক নেতা ও অধিকার কর্মী কে. এম. জিয়াউস সাদাত। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন অধিকার কর্মী এস কে এম. তাসাদুজ্জামান, সাখাওয়াৎ হোসেন স্বপন, অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, অধিকার কর্মী ও সাংবাদিক এম এ আজিম, মো. রায়হান মোল্লা, শেখ ফারুক, সরদার বাবুল হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, এম. এম. সোহরাব হোসেন, বাবু সরদার, জুলাইযোদ্ধা মুহা. তরেক রহমান, মো. হাবিবুর রহমান, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. মোস্তফা কামাল (রিপন), সাংবাদিক মো. সেলিম গাজী ও মো. তাসনিম হাসান আফ্রিদি, মো. শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে সংগঠনটি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে হয়রানি ও নিপীড়নের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও অধিকার মানুষের মৌলিক ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় তার সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনে শৃঙ্খলা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করার ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বক্তারা উল্লেখ করেন, মোংলায় কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে মিরাজ শেখ নামের এক জেলেকে গুমের অভিযোগ করা হলেও আজও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি। এছাড়া নতুন করে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে চরমভাবে খর্ব করবে বলে আশংকা করা হয়। আরও বলা হয়, সরকারের কাজের সমালোচনা ও স্বাধীন মতামত প্রকাশের কারণে মুক্তচিন্তার মানুষদের সন্ত্রাস দমন আইনে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করে একই কাঠামোর ‘এসআরবি’ গঠন করার প্রক্রিয়াও ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে মানবাধিকার রক্ষায় সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আগামী দিনেও অধিকার-এর লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button