অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বৈষম্যের স্থান নেই: শফিকুল আলম মনা

# টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরে বস্ত্র বিতরণ #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এ দেশের মাটি ও মানুষের রক্তে মিশে আছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ঐতিহ্য। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার-এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে যুগ যুগ ধরে এ দেশের সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ নষ্ট করার নানা ষড়যন্ত্র করলেও বাংলাদেশের মুক্তিকামী ও সচেতন মানুষ তা সফল হতে দেয়নি। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে খুলনার হিন্দু সম্প্রদায়ের মাঝে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে এবং সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করতে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে খুলনা মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান বিপ্লবের উদ্যোগে নগরীর টুটপাড়া গাছতলা মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে নতুন শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বিএনপি বিশ^াস করে, সকল নাগরিকের সমান অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের মুখে একটু হাসি ফোটাবে এবং আমাদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা বদরুল আলম খান, অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান নান্নু, মনজুরুল আলম, এস এম মুরাদ হোসেন, যুবদল নেতা দোলন, হৃদয় এবং মহিলা দল নেত্রী আনিকা সুলতানা নিপা সহ বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল ও স্থানীয় অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষরা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ বলেন, উৎসব মানুষের মধ্যে বিভেদ ভুলে মিলনের বার্তা দেয়। দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালির সর্বজনীন সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। সমাজের সকল স্তরের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং একে অপরকে সহযোগিতা করাই আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। উদ্যোক্তা ও যুবদল নেতা মাহমুদ হাসান বিপ্লব তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দলের নির্দেশনায় এবং এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের হাতে নতুন শাড়ি ও লুঙ্গি তুলে দেন।



