স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় দুর্গাপূজায় তিন স্তরের নিরাপত্তা : নজরদারিতে ৩৯৪ ম-প

# এসআরবি-৬ এর প্রেসবিফ্রিংয়ে অধিনায়ক #

স্টাফ রিপোর্টার : শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে খুলনা মহানগরী ও জেলার ৩৯৪টি পূজাম-পের নিরাপত্তায় বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে এসআরবি-৬। গত ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১১টায় খুলনা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্দির পরিদর্শন করেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ, বিজিবিএমএস। পরিদর্শন শেষে ধর্মসভা মন্দীরে প্রেসবিফ্রিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
তিনি জানান, এসআরবি ফোর্সেস সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৩ অক্টোবর থেকে পূজাম-পগুলোর নিরাপত্তায় বিশেষ টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এসআরবি-৬-এর দায়িত্বপূর্ণ আটটি জেলায় মোট ৫ হাজার ৩৫৪টি পূজাম-প রয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৩৯৪টি পূজাম-পে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, পূজাম-পগুলোকে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিতে ভাগ করে প্রতিটি উপজেলার জন্য ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব কর্মকর্তা নিজ নিজ এলাকার টহল দল নিয়ে দায়িত্বাধীন পূজাম-প পরিদর্শন ও নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি করছেন।
তিনি আরও বলেন, তিন স্তরে পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রথম স্তরে টহল দল সরেজমিনে পূজাম-প পরিদর্শন করছে। পাশাপাশি শহর ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দ্বিতীয় স্তরে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। তৃতীয় স্তরে রাখা হয়েছে রিজার্ভ ফোর্স, যাতে যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এসআরবি সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয়ভাবে সাইবার মনিটরিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাটালিয়ন পর্যায়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি রাখা হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনো উসকানিমূলক তৎপরতা বা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে তা প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজক কমিটি, সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত সহযোগিতায় এ বছরও নিরাপদ ও নির্বিঘেœ দুর্গাপূজা উদযাপন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে পূজার কার্যক্রম শেষ হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button