স্থানীয় সংবাদ

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি তার নিজস্ব দর্শন, স্বতন্ত্র নীতি ও নিরাময় ক্ষমতার কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে

# খুলনায় বিভাগীয় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সম্মেলন ও বিজ্ঞান সেমিনারে বক্তারা #
# ২২ সদস্য বিশিষ্ট খুলনা বিভাগীয় কমিটি গঠন
# সম্মেলন থেকে ১৪ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক অগ্রগতি এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতির বস্তুনিষ্ঠ প্রসার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খুলনায় দিনব্যাপী বিভাগীয় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সম্মেলন ও বিজ্ঞান সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, চিকিৎসা পেশা কেবল একটি পেশা নয়, এটি মানবসেবার অন্যতম মহান ব্রত। যুগে যুগে চিকিৎসাবিজ্ঞান নতুন নতুন অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি তার নিজস্ব দর্শন, স্বতন্ত্র নীতি ও নিরাময় ক্ষমতার কারণে বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। তবে আধুনিক যুগে শুধু চিরাচরিত উপায়ে চিকিৎসা দিলেই চলবে না; চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে আধুনিক অগ্রগতি ঘটছে, তার সাথে অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরও বেশি তথ্যনির্ভর, প্রাতিষ্ঠানিক ও বস্তুনিষ্ঠ করে তুলতে হবে। বক্তারা বলেন, ন্যাশনাল হোমিওপ্যাথিক ডক্টরস ফোরাম যেভাবে চিকিৎসকদের ঐক্যবদ্ধ করে সেবার মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আগামী দিনেও চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সুফল পৌঁছে দিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। ন্যাশনাল হোমিওপ্যাথিক ডক্টরস ফোরাম খুলনা বিভাগের উদ্যোগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আল-ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ।
সকাল ৯টায় উদ্বোধনী অধিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। বিভাগীয় চিকিৎসক সম্মেলন ও বিজ্ঞান সেমিনার বাস্তবায়ন কমিটি খুলনার আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল বারিকের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ডা. জাকিরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। প্রধান বক্তা ছিলেন ‘ন্যাশনাল হোমিওপ্যাথিক ডক্টরস ফোরাম’ এর পৃষ্ঠপোষক ডা. ফখরুদ্দীন মানিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল হোমিওপ্যাথিক ডক্টরস ফোরাম খুলনা মহানগরীর পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল হোমিওপ্যাথিক ডক্টরস ফোরামের খুলনা মহানগরীর উপদেষ্টা প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ডা. মো. হাবিবুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ডা. মুফতি মাসুদুর রহমান ও ডা. কে. এম. মোনায়েমুল বাসার।
সম্মেলনের মূল আকর্ষণ ছিল বিজ্ঞান সেমিনার সেশন। যেখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ ও আলোচনা উপস্থাপন করবেন। সেমিনারের আলোচক ছিলেন ডা. মো. হাবিবুর রহমান, ডা. কে এম মোনায়েমুল বাশার, ডা. আহমেদ হোসেন ফারুকী, ডা. ইমান আলী, ডা. কাজী আব্দুল হান্নান।
সম্মেলন থেকে ১৪ দফা দাবি উত্থাপন বরা হয়। দাবিকগুলো হলো-হোমিওপ্যাথিকেও জাতীয় বাজেটের আওতায় আনতে হবে এবং স্বাস্থ্য খাতে বাজেটের ১০% দিতে হবে; হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলে একজন অভিজ্ঞ চেয়ারম্যান এবং অভিজ্ঞ কাউন্সিলর নিয়োগ দিতে হবে; হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে; শিক্ষকদের তিন বছরের বকেয়া বেতন-ভাতা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে; কাউন্সিলের যাবতীয় অনিয়ম দূর করতে হবে; কাউন্সিলের যত দুর্নীতি আছে তা তদন্ত করে সঠিক বিচার করতে হবে; পরীক্ষা পদ্ধতি, খাতা মূল্যায়ন এবং অন্যান্য সকল হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলকেও দিতে হবে; কলেজের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, তাদের পদপদবি জেনারেল কলেজের মতো দিতে হবে এবং কলেজের অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে; লাইব্রেরি, ল্যাবরেটরি, ইনডোর, আউটডোর হাসপাতালের ওষুধ ও অন্যান্য যোগান সরকারিভাবে দিতে হবে এবং ইন্টার্নি চিকিৎসকদের ভাতা দিতে হবে; ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি কোটা বাতিল করতে হবে, কারণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার জন্য বৃত্তি এবং গবেষণা সেল প্রতিষ্ঠা করতে হবে; ডিএইচএমএস-এর মান নির্ধারণ করতে হবে; চিকিৎসক লেখা নিয়ে যে তালবাহানা চলছে তা বন্ধ করতে হবে এবং ২০২৩ সালে সংসদে পাশকৃত আইন বলবৎ রাখতে হবে; হোমিওপ্যাথি ওষুধকে মাদক বলে চালিয়ে দেওয়া বন্ধ করতে হবে; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ওষুধ নীতিমালা চালু করতে হবে।
সেমিনার শেষে সমাপনী অধিবেশন ও নবগঠিত কমিটির পরিচিতি অনুষ্ঠান পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। তিনি নবগঠিত ২২ সদস্য বিশিষ্ট খুলনা বিভাগীয় কমিটির নাম ঘোষণা করেন, সভাপতি অধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল বারিক (সাতক্ষীরা), সহ-সভাপতি যথাক্রমে ডা. শেখ জালাল উদ্দীন (খুলনা). ডা. মো, ইমান আলী (খুলনা), ডা. কামরুন্নেছা খুশী (খুলনা), অধ্যক্ষ ডা. একরাম আলী হাওলাদার (বাগেরহাট), ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (চুয়াডাঙ্গা), সেক্রেটারি ডা. জাকিরুল ইসলাম (খুলনা), যুগ্ম-সম্পাদক ডা. মাজহারুল ইসলাম (বাগেরহাট), ডা. অলিউল ইসলাম (খুলনা), ডা. জাহিদ হোসেন (যশোর), ডা. ওবায়দুর রহমান (কুষ্টিয়া), ডা. সৈয়দ মাহমুদুল হক (নড়াইল), সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মানিক (কুষ্টিয়া), অর্থ সম্পাদক ডা. কাজী আব্দুল হান্নান (খুলনা), প্রচার সম্পাদক ডা. রায়হান হোসেন (খুলনা), মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকসানা সুলতানা (খুলনা), সাহিত্য সম্পাদক ডা. শাহারুল ইসলাম (মেহেরপুর), কার্যকারী সদস্য ডা. ফয়সাল হোসেন (যশোর), ডা. মীর শাকিরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা), ডা. ফকরুল ইসলাম (চুয়াডাঙ্গা), ডা. ইব্রাহিম হোসেন (নড়াইল) এবং ডা. সাজেদুর রহমান (মেহেরপুর)।
ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং মস্তিষ্কের জটিল ব্যাধি চিকিৎসায় প্রচলিত ধারার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথির বিজ্ঞানসম্মত ব্যবহারের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা এই সেমিনারে বিশদভাবে উঠে আসে। এই বিজ্ঞান সেমিনারে বক্তারা হৃদরোগ, মস্তিষ্কের সাধারণ ব্যাধি, ক্যান্সার এবং অর্গানন অব মেডিসিনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়ে আলোকপাত করেন।
সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসকরা বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য রোগীর সঠিক, নিরাপদ ও ফলপ্রসূ চিকিৎসা প্রদান করা। হোমিওপ্যাথি যে একটি বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা, তা প্রমাণের জন্য আমাদের আরও বেশি গবেষণামুখী হতে হবে। মেটেরিয়া মেডিকা ও অর্গাননের নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতির সহযোগিতায় জনগণের কাছে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। অভিজ্ঞ ও নবীন চিকিৎসকদের জ্ঞান আদান-প্রদান এবং সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি চর্চার ক্ষেত্রে এ সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button