নগরীতে কোনভাবেই থামছে না খুনোখুনি : গতকালও ২ খুন

এবার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তাঁতি দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে যুবক খুন
স্টাফ রিপোর্টার : অশান্ত নগরীতে কোনভাবেই থামছে না খুনোখুনি। এবার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে খুলনা মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর রায়েরমহল বড় মসজিদ এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে লবণচরা থানাধীন নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শহীদুল ইসলাম কলিন (৩৫) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, হুমায়ুন কবির তাঁর নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হিল ক্যান্টিনে’ অবস্থান করছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হুমায়ুন কবির রায়ের মহল বড় মসজিদ এলাকার সৈয়দ আনোয়ার আলীর পুত্র।
নিহতের ভাইপো সৈয়দ দিদারুল করিম বিপ্লব দাবী করেন, ছাত্রদল নেতা আরাফাত ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর ছোট চাচা হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলা করেন। তারা হুমায়ুন কবিরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। সোনাডাঙ্গা থানা এবং খালিশপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এ বিষয়ে আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হালিমুর রহমান বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। তবে কোথায় এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা জানতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”
খুলনা মহানগর তাঁতি দলের আহ্বায়ক মো. আবু সাঈদ বলেন, নিহত হুমায়ুন কবির মহানগর তাঁতি দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর হত্যার খবর শুনে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন। তবে কারা বা কে এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানতে পারেননি।
নগরীতে গরীতে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শহীদুল ইসলাম কলিন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে লবণচরা থানাধীন কাশেমিয়া জামে মসজিদ থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে রাস্তার ওপর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবক ওই এলাকার মাহতাব উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মাহতাব উদ্দিনের ছেলে কলিন দুই-তিন দিন পরপর বাড়িতে আসতেন। শনিবার বিকেলে তিনি বাড়িতে আসেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন। রাত ১১টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে রাস্তার ওপর তাঁর মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাড়িতে খবর দেন।
পরে তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, নিহত যুবকের বিরুদ্ধে সাতটি মাদক ও একটি হত্যা মামলা রয়েছে। তিনি প্রায়ই বাড়ির বাইরে অবস্থান করতেন। মাঝেমধ্যে মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। শনিবারও তিনি বাড়িতে এসে সন্ধ্যার দিকে বের হয়ে যান। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি রাস্তার ওপর তাঁর মরদেহ দেখতে পেয়ে বাড়িতে খবর দেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

