যশোরে মাকে গলাকেটে গলাকেটে নৃশংস হত্যাকারী ছেলে মামুনের মৃত্যু খুলনায়

যশোর ব্যুরো ঃ বটি দিয়ে মায়ের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া সেই আলোচিত হত্যাকান্ডের কুলাঙ্গার ছেলে ছেলে মামুনুর রশিদ মামুন (৪৫) মারা গেছেন। মামুনুর রশিদ মামুন মারা গেছেন খুলনা আড়াইশ বেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। নৃশংসতম ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে যশোর সদর উপজেলার বাজে দূর্গাপুর গ্রামে। কারাগার সূত্রে জানাগেছে, গত রোববার ১ নভেম্বর রাত ৮টা ১০ মিনিটে হার্টঅ্যাটাক করে তার মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাদ দিয়ে খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলর সৈয়দ হাসান আলী জানিয়েছেন। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ হাসান মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
জেলার আবিদ হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আসামি মামুনুর রশিদ মামুন একটি হত্যা মামলার আসামি । তার হাজতি নম্বর ৫১০৫/২৫ । গত রোববার ১ নভেম্বর তার কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়। অর্থ্যাৎ তার হার্ট ব্লক হয়ে যায়। সে সময় তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাজতিকে খুলনা আড়াইশ বেড হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছিল। একই সাথে খুলনা কারাগারের জেলরকে অবহিত করা হয়। খুলনা কারাগারের সদস্যরা হাসপাতালে তার প্রহরায় নিয়োজিত ছিলেন। এক পর্যায় মামুনুর রশিদ মামুন মারা যান। খুলনা কারাগারের জেলর সৈয়দ হাসান আলী জানিয়েছেন, হাজতির মরদেহ যথাযত প্রক্রিয়ায় যশোরে পাঠানো হয়েছে।
মামুনুর রশিদ যশোর সদরের বাজেদুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাষ্টারের ছেলে। তিনি নিজেও যশোরের ঝিকরগাছার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। আর তার মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম ।
বাজেদুর্গাপুর গ্রামের মানুষ জানিয়েছে, মামুনের দুটি বিয়ে হয়েছিল। ৮/৯ বছর আগে সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলাকে বিয়ে করেছিলেন। বনিবনা না হওয়ায় মিথিলাকে তালাক দিয়েছিলেন মামুন। এরপর বিয়ে করেন ঝিকরগাছার অমৃতবাজার গ্রামের রিনাকে। বছর ৬ আগে রিনাও তালাক দিয়ে চলে যান। উভয় স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের কারণে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। মামুন তার স্ত্রীদের সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য তার গর্ভধারিনী মাকে দায়ী করতেন। এ নিয়ে এর আগেও মায়ের সাথে তার বিরোধ ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছিল।
এলাকাবাসি জানিয়েছে, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় ৩ বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি ২ থেকে ৩ মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, মামুন দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে থাকতেন না। প্রায় ৫ বছর পর গত ২৭ আগস্ট তিনি বাড়িতে এসছিলেন। ঘটনার দিন বিকেলে বাড়িতে এসে মায়ের সাথে কথা বলার একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে ধারালো বটি দিয়ে তার মাকে মাটিতে ফেলে গলায় ধারালো বটি চালিয়ে হত্যা করে। এক পর্যায় তার মা আনোয়ারার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে মামুন বটি ফেলে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে অবশ্য তিনি পুলিশে হাতে আটক হন।এই ঘটনায় মামুনের ছোট ভাই বাদি হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় মামুন যশোর কেন্দ্রীয় কারগারে আটক ছিলেন।



