জাতীয় সংবাদ

ঈদ শেষে স্বস্তিতেই ঢাকায় ফিরছে মানুষ, যাচ্ছে অনেকে

প্রবাহ রিপোর্ট : প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। তবে উল্টো পথে চলছে বাড়ি ফেরারও যাত্রা। ঈদের ছুটির পঞ্চম দিনে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই কমলাপুরে লক্ষ্য করা গেছে যাত্রীদের ব্যস্ততা। একদিকে দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি নিয়ে ঢাকামুখী ট্রেন থেকে নামছেন অনেকে, অন্যদিকে টিকিট হাতে উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছেন গ্রামের পথের যাত্রীরা। প্ল্যাটফর্মে শিশুদের হাসি, ব্যস্ত ঠেলাগাড়ি আর যাত্রীদের গুঞ্জনে মুখর ছিল স্টেশন। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সকাল ১০টার মধ্যেই ১২টি ট্রেন ছেড়েছে বিভিন্ন গন্তব্যে। অন্যদিকে, ঈদের দীর্ঘ ছুটি উপভোগ করার জন্য অনেকেই এখনো ঢাকা ছাড়ছেন। কমলাপুর স্টেশনে ঢাকামুখী যাত্রীর পাশাপাশি ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। ফেরা এবং ছেড়ে যাওয়া যাত্রীদের এই মিশ্র চিত্র কমলাপুর রেলস্টেশনে ঈদের ছুটির আমেজ এখনো কিছুটা ধরে রেখেছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মগুলোতে যাত্রীদের বেশ আনাগোনা। আগত ট্রেনগুলো থেকে যাত্রীরা নামছেন এবং অপেক্ষমাণ যাত্রীরা নিজ গন্তব্যের ট্রেনে উঠছেন। ঢাকা (কমলাপুর) স্টেশন ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন জানান, গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ১২টি ট্রেন কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে সব ট্রেন সময়মতো পরিচালনা করা হচ্ছে। ঈদের চাপ সামলাতে বাড়তি স্টাফ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। ঈদে বাড়ি যেতে না পারা আল-আমিন নামের এক যাত্রী বলেন, ঈদে যেতে পারিনি, তাই আজ যাচ্ছি। অনেক দিন পর পরিবারের সদস্যদের দেখব, খুব ভালো লাগছে। অন্যদিকে, পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ কাটিয়ে ঢাকায় ফেরা সোলাইমান সবুজ জানান তার অনুভূতির কথা। তিনি বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার ট্রেনে বাড়ি যাওয়া ও ফেরা দুটোই স্বস্থির ছিল। ট্রেনে কোনো বাড়তি যাত্রী ছিল না, পাশাপাশি সময় মত ট্রেন এসে পৌঁছায়। এই স্বস্থির জার্নির পাশাপাশি পরিবারের সাথে ঈদ করে খুব ভালো লেগেছে। সবার সাথে অনেক আনন্দ করেছি। বাবা-মাকে দেখেছি। সব মিলিয়ে খুব ভালো একটা সময় কাটিয়েছি। দেখা গেছে, বিগত বছরগুলোর মতন তীব্র ভিড় আর যানবাহনের চাপ নেই রাজধানীতে প্রবেশ ও বাহির মুখ গাবতলী বাস টার্মিনালে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটি শেষ না হওয়ায় ফিরতি যাত্রীর চাপ কম। তবে আজ শনিবার চাপ বাড়তে পারে। গতকাল শুক্রবার এমন চিত্র দেখা যায় রাজধানীর গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনালে। রাজধানীতে ফেরায় চাপ কম থাকায় কোথাও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না বলেছে যাত্রীরা। ফলে ভোগান্তিহীন ফিরতি যাত্রায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন যাত্রীরা। সরেজমিনে রাজধানী গাবতলী ঘুরে দেখা গেছে, ছুটি চলাকালীন বিগত দিনগুলোর তুলনায় সড়কে বেড়েছে যান চলাচল। বেড়েছে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও। কিছুক্ষণ পর পর রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে আসছে ফিরতি ঈদ যাত্রার দূরপাল্লার পরিবহন। তবে ফিরতি এ যাত্রায় দূরপাল্লার পরিবহনে চোখে পড়ার মতো যাত্রীর চাপ দেখা যায়নি। পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ শেষ করে নাটোর থেকে রাজধানীতে ফিরেছেন অন্তু মাহবুব। তিনি বলেন, শনিবার থেকে অফিস শুরু হবে। তাই আজ (গতকাল শুক্রবার) ফিরে এসেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সড়কে কোথাও যানজট বা কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। বাড়িতে গিয়েই ফিরতি টিকিট কেটে রেখেছিলাম তাই আসার সময় টিকিট পাওয়ারও কোনো সমস্যা হয়নি। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ যাত্রায় টিকিট পেতে কোনো ভোগান্তি ছিল না। দিনাজপুর থেকে পরিবার নিয়ে রাজধানীতে ফিরলেন জুবায়ের হোসেন। তিনি জানান, আগামীকাল (আজ শনিবার) ছুটি শেষ হবে আমার। রোববার থেকে অফিস শুরু। যেহেতু পরিবার নিয়ে ফিরতে হলো তাই আজই ফিরে এলাম যাতে একদিন অন্তত বিশ্রাম নিয়ে অফিস শুরু করতে পারি। তিনি বলেন, রাস্তার কোথাও তেমন কোনো ঝামেলা হয়নি। ঠিকঠাক ভাবেই ফিরে আসতে পেরেছি। গাড়িতেও বিগত বছরগুলোর মতন অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ছিল না। ফরিদপুর থেকে ঢাকায় ফিরলেন সৌরভ। তিনি বলেন, রাস্তায় কোথাও কোন ভোগান্তি ছিল না। কোন সমস্যা ছাড়ায় ঢাকায় ফিরে আসতে পেরেছি। তিনি বলেন, আগে যাতায়াতের সময় ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো। তবে বিগত বছরগুলোতে টিকিট পেতে যে ভোগান্তি হতো এবার সেই ভোগান্তি নেই। শ্যামলী পরিবহনের চালকের সহকারী মো.আবির আহমেদ বলেন, যাত্রী আছে তবে খুব বেশি তা না। টুকটাক যাত্রী আছে। আশা করা যায় শনিবার যাত্রীর চাপ বাড়বে। তিনি বলেন, বাসে মোটামুটি সব সিটেই যাত্রী ছিল। কিন্তু আগে যেমন যাত্রীর চাপে একাধিক গাড়ি ছেড়ে এসেছে এবার তেমনটা নেই। আবার গাড়িতেও অতিরিক্ত যাত্রী নেই। হানিফ পরিবহনে চালকের সহকারী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এখনো ছুটি শেষ হয়নি এ জন্য যাত্রী কম। তাছাড়া এবার লম্বা ছুটি তাই একবারে যাত্রীর চাপ নেই। কেউ আজ আসছে কেউ কাল আসবে আবার কেউ দুইদিন আগেই চলে আসছে। তবে পরবর্তীতে কিছুটা যাত্রীর বাড়বে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button