জাতীয় সংবাদ

নিবন্ধন ফিরে পেতে জামায়াতের আপিলের শুনানি চলতি সপ্তাহে

প্রবাহ রিপোর্ট : রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে করা আপিলের ওপর চলতি সপ্তাহে পুনরায় শুনানি হবে। ফলে আগামী মঙ্গল বা বুধবার জামায়াতের নিবন্ধন মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে। গতকাল রোববার বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছেন। আদালতে জামায়াতের নিবন্ধনের আপিল মামলাটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির। তখন আদালত বলেন, কার্যতালিকা পর্যবেক্ষণে রাখুন। আগামী মঙ্গলবার বা বুধবার বিষয়টি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে। এর আগে, এক রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে জামায়াতের মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ বলে আপিল আবেদনটি খারিজের আদেশ দেন। এর ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকে। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে দায়ের করা আপিল আবেদন পুনরুজ্জীবিত করতে চাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবেদন গ্রহণ করেন আপিল বিভাগ। আদালতে আবেদনের শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। পরে আইনজীবী জানান, ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ হিসেবে খারিজ হওয়া আপিলটি পুনরুজ্জীবিত (রিস্টোর) করতে আবেদন করেছিলাম। পরে গত ২২ অক্টোবর সে আবেদনের শুনানি নিয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে পেতে জামায়াতের আইনি লড়াইয়ের পথ নতুন করে উন্মোচিত হলো বলে জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button