এনবিআরের আন্দোলনে আওয়ামী ব্যবসায়ীদের ইন্ধন থাকতে পারে: অর্থ উপদেষ্টা

প্রবাহ রিপোর্ট : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে বিগত সরকারের কিছু সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের ইন্ধন থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এনবিআর কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে একটা নেতিবাচক ধারণা আছে। ওদের ক্যারিয়ারের কোনো অসুবিধা হবে না। বরং এনবিআর একটা স্বতন্ত্র ডিভিশন হবে। ওদের স্ট্যাটাসটা বাড়বে। ওদের ক্যারিয়ারটা আরও প্রসফেক্ট হবে। ওদের প্রমোশনটা আরও বেটার হবে। এখন তাদেরকে কারা কী বুঝিয়েছে। ভেতরের ব্যাপার স্যাপার আপনারা আরও ভালো বলতে পারবেন। তিনি বলেন, ওরা যেটা করেছে যে, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, এটা কোনো সরকারি কর্মচারী বিশেষ করে এনবিআরের কেউ কোনোদিন করেনি। এটা আপনার আমার ব্যাপার না। পুরা দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য, রাজস্বের ব্যাপার। বন্দর, স্থলবন্দর, আমদানি-রপ্তানির ব্যাপার। আমি বলেছি, এমন কোনো সমস্যা নেই যেটা আলোচনা করে সমাধান করা যাবে না। আন্দোলনে ব্যবসায়ীদের ইন্ধন প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এনবিআরে সংস্কার করার কারণ হচ্ছে এখানে আগে অনেক রকম অসঙ্গতি (ডিসক্রেপেন্সি) ছিল। সেখানে অ্যাকাউন্টেবিলিটি, ট্রান্সপারেন্সি নেই। এখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আগের সরকারের সময় কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী বেনিফিটেড হতো, ভালো যারা তারা সুবিধা পেত না। এনবিআর লেবেল প্লেয়িং ফিল্ডের ধারে কাছেও ছিল না। তিনি বলেন, অতএব আমি অনুমান করে বলছি, এখানে ব্যবসায়ীদের কিছু স্বার্থ আছে। না হয় ক্যারিয়ার ট্যারিয়ার নিয়ে ওরা হঠাৎ করে এত চটে গেল কেন? অন্য কোনো ইস্যু যদি না থাকে তাহলে এমন হওয়ার কথা না। এটা হলো আমার অনুমান। আমি ব্যবসায়ীদের ওভাবে দোষ দিচ্ছি না। আন্দোলনের মাধ্যমে এনবিআর কর্মকর্তারা চাকরিবিধি লঙ্ঘন করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এটা তো, হ্যাঁ, আমরা একটু ধৈর্য ধরছি। চাকরি করতে হলে অনেক বিধিনিষেধ মানতে হবে, শৃঙ্খলা থাকতে হবে। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এনবিআরের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমি বলেছি পৃথিবীতে এমন কোনো সমস্যা নেই, যার সমাধান করা যাবে না। এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমি আগে বলেছি এনবিআর কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ারের কোনো সমস্যা হবে না। একটা স্বতন্ত্র ডিভিশন হবে। ক্যারিয়ারটা আরও ভালো হবে, প্রমোশনের বিষয়টি আরও ভালো হবে। তাদের কে কি বুঝিয়েছে। ভেতরের বিষয়টি আপনারা ভালো জানেন। পলিসির বিষয়টি ওরা করতে পারবে না, অন্য কেউ করবে। আমি ওদের বলেছি তোমরা আসো। তিনি বলেন, এনবিআরের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমি বলেছি পৃথিবীতে এমন কোন সমস্যা নেই, যার সমাধান করা যাবে না। আমি তো আন্দোলন বন্ধ করতে বলেছি। উপদেষ্টা বলেন, এনবিআর আমরা রিফর্ম করেছি কেন? এনবিআরের ভেতরে আগে স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। আগের সরকারের সময় কিছু ব্যবসায়ী এটার সুবিধা নিয়েছে। ভালো যারা তারা কিন্তু ওদের ধারে কাছে যেতে পারতো না। আমি এটা অনুমান করে বলছি। না হলে ওরা ক্যারিয়ার নিয়ে হঠাৎ এত ক্ষেপে গেল কেন? এনবিআরকে পৃথক করে রাজস্ব শাখা ও নীতি শাখা হিসাবে নতুন বিভাগ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এমনটি করা হলে এখানে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অধিপত্য ও উপস্থিতি বাড়বে বলে বিসিএস (কর) ক্যাডার এবং বিসিএস (শুল্ক ও আবগারী) ক্যাডার কর্মকর্তারা বলে আসছেন। এরই ভিত্তিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে আন্দোলন, কর্মবিরতি চলছে। সেখানে পুলিশ পাহারায় নিয়মিত আসা-যাওয়া করছেন প্রশাসন ক্যাডার থেকে চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পাওয়া সচিব আবদুর রহমান খান।
রিজার্ভ বাড়ায় বাজেট সাপোর্ট আসছে: অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ভালো রেমিট্যান্স আসায় ও রিজার্ভ বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বাজেট সাপোর্ট (অর্থ সহায়তা) পাওয়া যাচ্ছে। রিজার্ভ বাড়ার কারণ জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আইএমএফ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বাজেট সাপোর্ট এসেছে। পাশাপাশি রপ্তানি আয় মোটামুটি ভালো হচ্ছে, রেমিট্যান্সও ভালো আসছে। যারা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তাদের কৃতিত্ব সবচেয়ে বেশি প্রবাসীদের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, আমি মক্কা-মদিনায় গিয়ে দেখেছি, সাধারণ প্রবাসীরা বলছে- স্যার, আপনারা আছেন বলেই আমরা টাকা পাঠাই। আগে পাঠালে কোথায় যেত জানত না। এখন তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রেমিট্যান্স পাঠায়। এটি ধরে রাখতে হবে। আশা করি পরবর্তী সরকার যারা আসবেন ওরা এটি কন্টিনিউ করবেন। আইএমএফ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের একটা সময় প্রকাশ পাওয়ায় আইএমএফসহ সবাই সন্তুষ্ট হয়েছে। আইএমএফ আমাকে প্রশ্ন করেছিল যে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কি হবে না। ওরা চিন্তা করছে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কিনা হবে। আমরা তো বলেছি হবে। রিসেন্টলি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এডিবি, এএফডি, এআইআইবি লোন অ্যাপ্রুভ করেছে। মোটামুটি বাংলাদেশে সংস্কার কাজের প্রোগ্রেস দেখে সবাই সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, রিসেন্টলি ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও এডিবি অ্যাপ্রুভ করেছে, গত পরশু এআইবি বিরাট একটা অংক অ্যাপ্রুভ করেছে। আমাদের সংস্কার কার্যক্রমের যে প্রগ্রেস, তারপর অর্থনৈতিক খাতে আমরা যেটা করেছি তারা সন্তুষ্ট বলে কোনো এজেন্সি এখন পেন্ডিং নেই। আইএমএফ লেটেস্ট এসেছে ১.৩ বিলিয়ন ডলার। ওরা অভারল বলেছে দেশের রাজনৈতিক অবস্থা, দেশে গভর্নেন্সও আছে। উপদেষ্টা বলেন, বিদেশি বিনিয়োগটা একটু স্লো আছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে, বিশেষ করে বাজেট সাপোর্ট আসার কারণে ফরেন রিজার্ভটা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি রপ্তানিটা এখন মোটামুটি ভালো আছে বলেও জানান সালাহউদ্দিন আহমেদ।



