জাতীয় সংবাদ

৩৬ দিনব্যাপী জুলাই অভ্যুত্থান উদযাপন করবে এবি পার্টি

প্রবাহ রিপোর্ট : অনুপ্রেরণা, আত্মপর্যালোচনা ও প্রত্যয়দীপ্ত অঙ্গীকারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিন উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি ‘এবি পার্টি’। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় বিজয় নগরস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা সবসময় নির্বাচন ছাড়া জোর করে তাদের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চেয়েছে। পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৭০ এর নির্বাচন আদায় করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু তারা গণহত্যা চালিয়ে সে নির্বাচনের ফল বাস্তবায়ন করতে দেয়নি। ফলে অনিবার্য হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। যা দেশের মানচিত্র, পতাকা ও ভূখ- নতুন করে নির্ধারণ করেছিল। মঞ্জু বলেন, ৯০ এর গণআন্দোলনের পর ৯১ এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছিল, যা সংবিধানে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়েছে। নব্বইয়ে তিন জোটের রূপরেখা ঘোষণা করে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিলসহ সব কিছু ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন হয়নি উল্লেখ করে জনাব মঞ্জু বলেন, হাজার হাজার মানুষের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে সিংহাসন ছেড়ে পালাতে হয়েছে। সুতরাং শুধু একটা নির্বাচন করে ক্ষমতায় নতুন সরকার বসলেই গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার পূর্ণ হবে না। বরং একাত্তর, নব্বই ও চব্বিশের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সকলে ঐকমত্যে পৌঁছানোর মাধ্যমে একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নতুন মাত্রায় উপনীত করতে হবে। তিনি সকলকে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ঐকমত্যে পৌঁছার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-
১ জুলাই: আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-জাতীয় প্রেসক্লাব ২-১৩ জুলাই: ‘কোটা না মেধা’ শীর্ষক চিত্র প্রদর্শনী- বিজয়-৭১ চত্বরে ১৪ জুলাই: প্রতীকী মিছিল- বিজয়-৭১ চত্বরে ১৫ জুলাই: ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার দাবি জানিয়ে জাতিসংঘ মিশনে স্মারকলিপি ১৬ জুলাই: দোয়া মাহফিল, কালোপতাকা মিছিল- রংপুর, ফেনী ও ঢাকা ১৭ জুলাই: গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ- প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ১৮ জুলাই: কফিনবাহী প্রতীকী রোডমার্চ- যাত্রাবাড়ী থেকে উত্তরা ১৯ জুলাই: মৌন মিছিল- হেলিকপ্টার গুলিবর্ষণ স্মরণে ২০ জুলাই: প্রবাসীদের রেমিটেন্স শাটডাউন স্মরণে আলোচনা সভা- লন্ডন, দুবাই, মালয়েশিয়া ২১ জুলাই: আলেম-ওলামাদের সম্মাননা- বিজয়-৭১ চত্বরে ২২ জুলাই: শহীদ স্মরণে মিছিল- চট্টগ্রাম ২৩ জুলাই: আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার দাবিতে চিঠি প্রেরণ ২৪ জুলাই: নারীদের সম্মাননা- জাতীয় প্রেসক্লাব ২৫ জুলাই: শ্রমিক সমাবেশ- গাজীপুর ২৬ জুলাই: রায়েরবাজার গণকবরে শ্রদ্ধা ও দোয়া ২৭ জুলাই: আইনজীবীদের সম্মাননা ও মতবিনিময় ২৮ জুলাই: চিকিৎসকদের সম্মাননা ৩০ জুলাই: আহতদের সাথে মতবিনিময় ৩১ জুলাই: শিল্পী, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের চা-চক্র ১ আগস্ট: কারারুদ্ধ নেতাদের সম্মাননা ২ আগস্ট: সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ৩ আগস্ট: কর্মসূচি ঘোষণার স্মরণে প্রেস ব্রিফিং ও পদযাত্রা- শহীদ মিনার ৪ আগস্ট: জাতীয় পতাকা মিছিল- বিজয়-৭১ চত্বরে ৫ আগস্ট: বর্ষপূর্তি সংহতি সমাবেশ, ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, শহীদদের মাগফিরাত কামনায় জেয়াফত- বিজয়-৭১ চত্বরে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুল, ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, এবিএম খালিদ হাসান ও ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক মোহাম্মদ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাসেত মারজান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ফারাহ নাজ সত্তার, কেন্দ্রীয় সহকারী দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরণ চৌধুরী, আব্দুল হালিম নান্নু, মশিউর রহমান মিলু, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান ব্যাপারী, সহকারী স্বেচ্ছাসেবা বিষয়ক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন রমিজ, কেফায়েত হোসেন তানভীর, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সদস্য সচিব আহমাদ বারকাজ নাসিরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button