জাতীয় সংবাদ

সংসদ ভবন এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ মামলা : ৬ শতাধিক আসামী

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ জুলাই সনদ সই অনুষ্ঠান ঘিরে পুলিশের সঙ্গে জুলাইযোদ্ধাদের সংঘর্ষের ঘটনায় পৃথক দুটি থানায় পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। গত শুক্রবার মধ্যরাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগন থানায় চারটি ও ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। এসব মামলায় প্রায় ছয় শতাধিক মানুষকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে রিমন চন্দ্র বর্মন নামে একজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে শেরে বাংলা থানা পুলিশ। গতকাল শনিবার দুপুরে শেরেবাংলা থানার ওসি ইমাউল হক বলেন, গত শুক্রবার সংরক্ষিত এলাকায় (সংসদ ভবন এলাকা) জোরপূর্বক প্রবেশ, পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও কন্ট্রোল রুম পোড়ানোর ঘটনায় পৃথক চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলা কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে পাঁচ শতাধিক অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, গতকাল (গত শুক্রবার) ঘটনাস্থল থেকে দুই জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে রিমন চন্দ্র বর্মন নামে একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এদিকে গত শুক্রবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ধানমন্ডি থানায় একটি মামলার দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে ধানমন্ডি থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা বলেন, সরকারি স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনায় ৬০-৭০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ সই অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাদের একাংশ তিন দফা দাবি- জুলাই যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া, শহীদ ও আহতদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং সুরক্ষা আইন ও দায়মুক্তি নিশ্চয়তা বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ করেন এক পর্যায়ে কয়েক শত জুলাই যোদ্ধা গেট ভেঙে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঢুকে অতিথিদের আসনে বসে পড়েন। এ সময় নিরাপত্তা সদস্যরা তাদের সরে যেতে বললে শুরু হয় বাকবিত-া। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ জুলাই যোদ্ধারা পুলিশ সদস্যদের মারধর, গাড়ি ভাঙচুর ও কন্ট্রোল রুমে অগ্নিসংযোগ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পুলিশের অন্তত ১০ জন ও জুলাই যোদ্ধাদের ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় জুলাই যোদ্ধা সংসদ নামে একটি সংগঠন গতকাল শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি সংঘর্ষের ঘটনাকে ‘পুলিশি হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন ও হামলার প্রতিবাদে রোববার সারা দেশে সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button