জাতীয় সংবাদ

পাশের দেশ চায় আমাদের যেন ব্যবসা কমে যায়

বিটিএমএ সভাপতি

প্রবাহ রিপোর্ট : পাঁচ দিনের মধ্যে দেশে বড় ধরনের তিনটি অগ্নিকা-ের ঘটনায় ‘ষড়যন্ত্র’ দেখতে পাচ্ছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ। তিনি বলেছেন, “ভূরাজনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ এমন একটা জায়গায় পড়েছে, যেখানে অনেকের চোখ পড়েছে; এক ধরনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আছে। “বর্হিবিশে^ যেন আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, তা নিয়ে এক ধরনের ষড়যন্ত্র আছে। পাশর্^বর্তী দেশের এক ধরনের চিন্তাভাবনা আছে, যেন তাদের ব্যবসাটা ভালো হয়, আমাদের ব্যবসা কমে যায়।” গতকাল সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে রপ্তানিকারক সংগঠনগুলোর প্রেস ব্রিফিংয়ে এসে তিনি এসব কথা বলেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে শনিবারের অগ্নিকা-ে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। এক্সপোর্টার্স অ্যাসোশিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সঙ্গে খাতভিত্তিক সংগঠনগুলোর এপেক্স বডি বিকেএমইএ, বিজিএমইএ, বিটিএমএ, বিজিপিএমইএ, লেদার অ্যান্ড লেদার গুডস, ফুট অ্যান্ড ভেজিটেবলস, ঔষধ শিল্প, জুয়েলারি এক্সপোটার্স, সুয়িং থ্রেড, ফ্রোজেন ফুডস, প্লাস্টিক গুডস, সিল্ক গুডস, হস্তশিল্প, ক্রাফট অ্যান্ড গিফ্টওয়্যার ইত্যাদি অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন মিলে এ সংবাদ সম্মেলন করে। শওকত আজিজ বলেন, “আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছি। এটা কোনো খেলার মাঠ না, এটা আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর এবং সেটার অবস্থান রাজধানীতে। আমাদের ভাববার বিষয় আছে; ভীষণভাবে ভাববার বিষয় আছে। অনেক ক্রেতা আমাদের দেশ থেকে চলে যাচ্ছেন। অনেক ক্রেতা, যাদের আসার কথা ছিল, তারা আসবেন কিনা, চিন্তা করছেন।” ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঁচ দিনের মধ্যে তিনটি বড় ধরনের অগ্নিকা- ঘটে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ঢাকার মিরপুরে রূপনগর এলাকায়। গত মঙ্গলবার সেখানে পোশাক কারখানা ও রাসায়নিকের গুদামে অগ্নিকা-ে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে প্রায় ২৮ ঘণ্টা পরে। এরপর গত বৃহস্পতিবার আগুন লাগে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল- সিইপিজেড এলাকার একটি কারখানায়। সেখানে কেউ হতাহত না হলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর। সবশেষ গত শনিবার বড় ধরনের আগুন লাগে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে পরের দিন। এক দিন পর পর এ ধরনের বড় তিনটি অগ্নিকা-ের ঘটনায় নানা মহলে নানা সমালোচনা শুরু হয়। এসব ঘটনা ‘পরিকল্পিত’ কিনা, সেই প্রশ্নও ওঠে। এসব অগ্নিকা-ের বিষয়ে শওকত আজিজ বলেন, “আমাদের এমনভাবে ক্ষতিটা নিয়ে যাচ্ছে, যেতে যেতে বিমানবন্দর পর্যন্ত চলে গেছে। এরপর আমাদের ঘরবাড়ি পোড়ানোর সময় আসবে।” এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, “এক ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে আমাদের দেশে। একের পর এক কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। “একটা ম্যাচের দাম এক টাকা হতে পারে। কিন্তু একটা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। একটা গ্রুপ আছে, যারা জিনিসগুলো মূল্যায়ন করে না।” কার্গো ভিলেজে অগ্নিকা-ের ঘটনায় দেশের রপ্তানিকারকরা যেমন শঙ্কিত, বিদেশি ক্রেতারাও উদ্বিগ্ন বলে মনে করছে ইএবি। শনিবারের অগ্নিকা-ে ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে বলে সংগঠনগুলোর প্রাথমিক ধারণা তুলে ধরা হয় ব্রিফিংয়ে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button