জাতীয় সংবাদ

খালেদা জিয়ার জন্য শোক বই, ২৮ দেশের কূটনীতিকের স্বাক্ষর

প্রবাহ রিপোর্ট : দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাচ্ছেন ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শোক বই খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে এতে ২৮টি দেশের কূটনীতিক স্বাক্ষর করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ৩টা থেকে শোক বইয়ে স্বাক্ষর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যা অব্যাহত থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এসব তথ্য জানিয়েছেন। শায়রুল কবির খান জানান, চীন, ভারত, পাকিস্তান, জার্মানি, ইরান, ওমান, আলজেরিয়া, কাতার, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন, ব্রুনাই, ফিলিস্তিন, স্পেন, মরক্কো, ভুটান, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সমন্বয় করছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রাশেদুল হক, নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, জেবা খান এবং ব্যারিস্টার গিয়াসউদ্দিন রিমন। এছাড়া, পৃথক আরেকটি শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্নয়ক জোনায়েদ সাকি, প্রাক্তন মেজর জেনারেল মনিরুজ্জামান, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম ওয়াহাব, চিন্তাবিদ ফরহাদ মাজহার এবং প্রখ্যাত ফুটবলার কায়সার হামিদ। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনদের শোক বইয়ে স্বাক্ষর কার্যক্রম সমন্বয় করছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সাহলে প্রিন্স। যে ভবনে বসে সাত বছর ধরে দলের কার্যক্রম সামলেছেন খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের সেই কার্যালয়ে তার জন্য খোলা হয়েছে শোক বই। বিএনপি মিডিয়া সেল জানিয়েছে, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে এ শোক বই খোলা হয়েছে। এ বইয়ে কূটনীতিকদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ সই করতে পারবেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে গুলশান কার্যালয়ে বসতেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠানোর আগ পর্যন্ত সেখানে নিয়মিত পদচারণা ছিল খালেদা জিয়ার। বিএনপি মিডিয়া সেল জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ও বুধবার বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা এবং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়ে শোক বইয়ে সই কর্মসূচি চলবে। কোভিড মহামারীর সময় ২০২০ সাল থেকে সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়া সাময়িক মুক্ত হলেও রাজনৈতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি নেত্রী পুরোপুরি মুক্ত হলেও তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ফলে তিনি আর কার্যালয়মুখী হতে পারেননি। গত ৪০ দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধা পাওয়া খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪১ বছর। তিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী; আর বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন দুইবার।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button