জাতীয় সংবাদ

বিপ্লব আমাকে ফাঁসির মঞ্চ থেকে সংসদে এনেছে: আজহারুল ইসলাম

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের ফলেই ফাঁসির দ- থেকে মুক্তি পেয়ে জনগণের ভোটে সংসদে আসার সুযোগ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আমি সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ আদালতে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামি ছিলাম। ৫ই আগস্টের বিপ্লবের মাধ্যমেই আমার মুক্তির পথ সুগম হয়েছে।’
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আজহারুল ইসলাম বলেন, এই আন্দোলন হঠাৎ করে হয়নি এবং এটি কেবল এক সরকার হটিয়ে অন্য সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও পরিবর্তনের আন্দোলন।
প্রবাসী ভাই-বোনরা রেমিট্যান্স বন্ধ না করলে এই আন্দোলন এত দ্রুত সফল হতো না। এ সময় তিনি আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল, তাদের অনেক যোগ্য নারী নেত্রী আছেন। কিন্তু দেখলাম সংরক্ষিত আসনে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার আওয়ামী লীগের এক মহিলা সম্পাদককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে! কেন এই দৈন্যতা? আপনারা কি কোনও বিশেষ শক্তিকে খুশি করতে চান?
বর্তমান রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে এই জামায়াত নেতা বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতিতো আওয়ামী লীগেরই দোসর। গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ যা করেছে, তিনি তার নীরব সাক্ষী ছিলেন। আধিপত্যবাদের দোসর হয়ে যারা দেশ চালিয়েছে, সেই আওয়ামী লীগের তৈরি করা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আমি কীভাবে ধন্যবাদ জানাব?’
নিজ এলাকা রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে আজহারুল ইসলাম বলেন, বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জের ৭৫ শতাংশ রাস্তা এখনো কাঁচা। বদরগঞ্জ বন্দরে তীব্র যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক এবং পার্বতীপুর থেকে রংপুর পর্যন্ত রাস্তা চার লেনে উন্নীত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, মাওলানা নিজামী যখন শিল্পমন্ত্রী ছিলেন, তখন শ্যামপুর সুগার মিল লাভজনক ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার এসে এটিকে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে বন্ধ করে দিয়েছে। আমি এটি পুনরায় চালুর দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া তারাগঞ্জ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও এলাকায় খেলার মাঠ তৈরির জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। জামায়াত নেতাদের ‘ত্যাগের’ স্মৃতিচারণ
বিগত সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামীর ওপর হওয়া নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে জামায়াতের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন হয়েছে। আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দিয়ে অথবা বিনাচিকিৎসায় হত্যা করা হয়েছে। শহীদ মীর কাসেম আলী বিদেশে থেকেও ফাঁসির পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন, পালান নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button