প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই সিলেটে ৪,৬৪৭ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ২০০৪ সালের ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে সিলেটে আসার পর দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন সিলেট ছুঁয়ে গেলেও পূণ্যভূমির মাটি স্পর্শ করা হয়নি। সর্বশেষ নির্বাচনী প্রচারণায় সিলেটে আসেন তারেক রহমান। গত ২২ জানুয়ারি প্রায় দুই দশক পর সিলেটে পা মাড়ান দলীয় প্রধান হয়ে। এবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে আগামী শনিবার (২ মে) সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এ আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে প্রস্তুত রয়েছে সিলেট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে চলছে বহুমাত্রিক প্রস্তুতি। সফরকে সফল করতে বিস্তারিত কর্ম পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অবশ্য এবার শ্বশুড়বাড়ি সিলেটের জন্য থাকছে বড় সুখবর। সিলেট সফরকালে ৪ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। এরমধ্যে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সুরমা নদীর উভয় তীরের সৌন্দর্য বর্ধণসহ বন্যা প্রতিরোধী ও অবকাঠামো নির্মাণ। সিলেট সফরকালে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, শহীদ জিয়ার হাতে শুরু হওয়া বাসিয়া খনন কাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে। একদিকে কৃষকের পানির নিশ্চয়তা এবং হারানো নৌপথের পুনরুদ্ধার- সব মিলিয়ে এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে যাচ্ছেন এ অঞ্চলের মানুষজন। স্থানীয়রা জানান, এই খাল খনন হলে পাঁচ উপজেলার (সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বানাথ, ওসমানীনগর ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর) হাজার হাজার কৃষক লাভবান হবেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২৩ দশমিক ২৫০ বাসিয়া খাল খনন হবে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, দক্ষিণ সুরমায় ৬ কিলোমিটার, বিশ্বনাথে ৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, ওসমানীনগরে ৩ কিলোমিটার ও জগন্নাথপুরে ৪ দশমিক ২৫০ কিলোমিটার খনন করা হবে। সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাসিয়ার তীরে অনেক গ্রামগঞ্জ, হাটবাজারসহ বিস্তীর্ণ ফসলী জমি রয়েছে। নদী খননে সরাসরি ১০ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। এতে ৩৫ হাজার মেট্রিকটন ধান, ১৫ হাজার টন সবজি এবং ৩ হাজার টন ফসল উৎপাদন হবে। প্রায় ৮০ হাজার পরিবার কৃষি থেকে উপকৃত হবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আড়াই লাখ মানুষ বাসিয়া খনননে উপকার ভোগী হবে। এছাড়া নতুন উদ্যোক্তা ও কৃষি বাণিজ্য তৈরী হবে বলেনও আশাবাদি অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বাংলানিউজকে বলেন, মোট ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাসিয়া খাল খনন করা হবে। সুরমার উৎস মুখ থেকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত ২৩ দশমিক ২৫ কিলোমিটার। বাসিয়া নদীর দৈর্ঘ্য ৪০ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার হলের অনেক স্থানে পানি রয়েছে। সেসব স্থান সার্ভে করে বাদ দিয়ে মোট ৪টি সেগম্যান্টে খাল খনন হবে। তবে এখনো এটি টেন্ডার হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর টেন্ডার হবে। এদিকে, সিসিক সূত্র জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে সুরমা নদীর উভয় তীরের সৌন্দর্যবর্ধণসহ বন্যা প্রতিরোধী ও অবকাঠামো নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর বাংলানিউজকে বলেন, সিসিক এলাকায় সুরমার দুই তীরে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ প্রকল্প অতি শিগগিরই একনেকে পাস হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় রয়েছে নদীর দুই তীর উঁচু করা, ফ্লাড ওয়াল, রেগুলেটর ও পাম্পস্টেশন এবং স্লাব গেইট স্থাপন। পাশপাশি জমি অধিগ্রহণ করে সৌন্দর্য বর্ধন করে ফুডকোর্ট বসানো হবে। এছাড়া সিলেট সফরকালে প্রধানমন্ত্রী সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ক্রীড়া কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। সার্কিট হাউস সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী আলিয়া আমজাদের ঘড়ি এলাকাও সাজানো হচ্ছে নতুনভাবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত অবস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মসূচি। সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে স্থানীয় রাজনীতি ও সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট, নজরদারি এবং প্রটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফরের সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিটি স্থান আগেভাগেই প্রস্তুত রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে শুধু প্রশাসনিক নয়, জনমানুষের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নগরের বিভিন্ন স্থানে স্বাগত ব্যানার, আলোকসজ্জা এবং দলীয় কর্মসূচির কারণে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অতীতেও সিলেটে তার সফর ঘিরে এমন জনসমাগম ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।



