পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা পুনরায় চালুর পথে বাংলাদেশ-ভারত

প্রবাহ রিপোর্ট : দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরের টানাপোড়েনের পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারত পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। শনিবার (২ মে) সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বাংলাদেশ এরইমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালু করেছে। আর ভারত সরকার ধাপে ধাপে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। সফরে ভিসা স্বাভাবিককরণ ঢাকার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয় বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ কলকাতা, আগরতলা, মুম্বই ও চেন্নাইয়ের ভিসা কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু রয়েছে। দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া ভিসা কার্যক্রম ফেব্রুয়ারি থেকে পুনরায় চালু হয়েছে। এই সময়ে প্রায় ১৩ হাজার ভারতীয় নাগরিককে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভিসা দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক ভ্রমণ। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অংশ হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রিসহ একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্র্বতী সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দিল্লি–ঢাকা সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়। ভিসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে দুই দেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও জ্বালানি সহযোগিতাসহ অন্যান্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভিসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যহত হলেও কখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে চিকিৎসা বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে ভিসা দেয়া হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।



