আধুনিকতায় বদলে যাচ্ছে চীনের শিনজিয়াং

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ চীনের উত্তর-পশ্চিমের শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এখন পরিবর্তনের পথে। একসময়ের পিছিয়ে পড়া এই প্রদেশ এখন অত্যাধুনিক অবকাঠামো, কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, স্মার্ট শহর ব্যবস্থাপনা এবং বিপুল পর্যটকের সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মানেরও ব্যাপক উন্নয়ন দৃশ্যমান। সম্প্রতি ঢাকার চীনা দূতাবাসের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের একটি সাংবাদিক প্রতিনিধি দল চীন সফর করে। সফরকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সাংহাইয়ের পাশাপাশি শিনজিয়াং প্রদেশের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সরেজমিনে অঞ্চলটির অভাবনীয় উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেন। ৭০ বছর পূর্তিতে উন্নয়নের প্রদর্শনী ২০২৫ সালে শিনজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিল বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বিশেষ এক্সিবিশন সেন্টার। যেখানে শিনজিয়াংয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বর্তমান উন্নয়নের চিত্র নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পুরো এলাকা ঘুরে সেই উন্নয়নের ছাপই চোখে পড়েছে। কৃষিতে এআই প্রযুক্তি ও আধুনিকায়ন ঃ শিনজিয়াং অঞ্চলে কৃষিপণ্য উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। কম সময়ে অধিক ফসল ফলানোর নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শিনজিয়াংয়ের একটি আধুনিক গ্রিনহাউজ ফ্যাক্টরি ঘুরে দেখা যায়, সেখানে নানা ধরনের শাকসবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। সারা বছরই এ উৎপাদন অব্যাহত থাকে। শিনজিয়াং অঞ্চলে ফসল উৎপাদনে এখন ব্যাপকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ দমন ও জনসচেতনতা ঃ একসময় শিনজিয়াং অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ছিল, যারা নিরীহ মানুষের ওপরও হামলা চালাত। তবে সেই পরিস্থিতি এখন আর নেই। চীনা গাইড ওয়েং জানান, সরকারের কঠোর পদক্ষেপ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হওয়ায় এখন আর আগের মতো সন্ত্রাসী কর্মকা- ঘটে না। প্রদেশটিতে এখন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। স্মার্ট শহর ব্যবস্থাপনা ঃ শিনজিয়াং প্রদেশের রাজধানী উরুমচি শহরকে পুরোপুরি আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে শহর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। শহরের বাসিন্দাদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ একটি মোবাইল অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেদের যেকোনো সমস্যা জানালে কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ে তা সমাধানে উদ্যোগ নেয়। পর্যটন খাতে বিপুল সম্ভাবনা ঃ নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় শিনজিয়াংয়ে প্রতি বছর পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। চীনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৩২ কোটি ৩০ লাখ (৩২৩ মিলিয়ন) পর্যটক শিনজিয়াং ভ্রমণ করেছেন। এ খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৭০ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৫৩.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে শিনজিয়াংয়ের দর্শনীয় স্থানগুলোর আধুনিকায়ন ও নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ‘পশ্চিমা অপপ্রচার’ প্রত্যাখ্যান ঃ শিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ রয়েছে। পশ্চিমা মিডিয়াগুলোতে এ নিয়ে প্রায়ই নানা নেতিবাচক খবর প্রচার হয়। তবে, একে সম্পূর্ণ ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন শিনজিয়াং প্রদেশের ইসলামিক সেন্টারের প্রধান ইমাম ও চাইনিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহম্মদ ইয়াহিয়া। বাংলাদেশের সাংবাদিক প্রতিনিধি দলকে তিনি বলেন, ‘শিনজিয়াংয়ের মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়া যে অপপ্রচার চালিয়ে থাকে, তা আদৌ সত্য নয়। এখানে ধর্ম পালনে কোনো বাধা নেই। যারা এসব অপতথ্য ছড়ায় প্রকৃত সত্য জানতে আমরা তাদেরও এখানে এসে পরিস্থিতি দেখে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’



