দেশজুড়ে নারী-শিশু নির্যাতনে উদ্বেগ জাতীয় নারী নির্যাতন ফোরামের

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যাসহ দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম। একই সঙ্গে এসব ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিতামূলক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ফোরামের সভাপতি মমতাজ আরা বেগম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২০ মে রাজধানীর পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে আট বছর বয়সী এক শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশু স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনাসূত্রে জানা যায়, ১৯ মে শিশুটির স্কুলে যাওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে শিশুটির মা পাশের একটি ফ্ল্যাটে মেয়ের জুতা পড়ে থাকতে দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে সেখানে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হলে ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম এ ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, আট বছর বয়সী একটি শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যা সমাজের নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিবৃতিতে নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়ে ১১ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে সংগঠনটি জানায়, শিশুটির জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে। ফোরাম জানায়, গত চার মাসে দেশে অন্তত ৪৭ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের এবং ৩১ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। নির্যাতিতদের অধিকাংশই শিশু। বিবৃতিতে বলা হয়, শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশ ও সুরক্ষায় ঘাটতি, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, আইনের যথাযথ প্রয়োগে দীর্ঘসূত্রিতা এবং সামগ্রিক জবাবদিহিতার অভাবের কারণে নারী ও শিশুরা ক্রমেই অনিরাপত্তার মুখে পড়ছে। সংগঠনটি অবিলম্বে নারী ও শিশু নির্যাতনের সব স্পর্শকাতর মামলাকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।



