জাতীয় সংবাদ

রাজধানীতে ছিনতাই রোধে অভিযান : কিন্তু রক্ষা পেলেন না দুই নারী

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। তবে ধারাবাহিক এসব অভিযানের পরও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না অপরাধপ্রবণতা। এরই মধ্যে গত শনিবার রাতে দুই নারী ছিনতাইকারীর কবলে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নতুন করে জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সোমবার (১ জুন) ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বাংলানিউজকে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজন ছিনতাইকারীকে এরই মধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। সেই ছিনতাইকারী তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা। ছিনতাইয়ে মোট তিনজন অংশ নিয়েছিল। বাকি দুজনকেও শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত ২৬ মে ডিএমপি জানায়, বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে ১৬ জন এবং আদাবর থানা এলাকা থেকে ১৩ জনকে আটক করা হয়। বাকি আসামিরা বিভাগের অন্যান্য থানার বিভিন্ন মামলার অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্র জানায়, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী, চোর, সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় প্রায়ই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায় পুলিশকে। তবে এসব তৎপরতার মধ্যেও মাঝেমধ্যে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নুরজাহান রোডে রিকশা থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে দুই নারী ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ জানায়, ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে। ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরে বাসার সামনে পৌঁছানোর পর দুই নারীকে চাপাতি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ছিনতাইকারীরা। পরে তাদের সঙ্গে থাকা দুটি লাগেজ, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাকিবুজ্জামান রাকিব বলেন, ছিনতাইয়ের শিকার দুই নারীর পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজন ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা অনেকেই বলছে, নিয়মিত অভিযান ও গ্রেপ্তারের ফলে অপরাধপ্রবণতা আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। তবে আরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আরও কার্যকর নজরদারি, টহল বৃদ্ধি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা প্রয়োজন। তাদের মতে, মাঝে মধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও ধারাবাহিক আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button