কারারক্ষীর পোশাকের আড়ালে চলছে মাদক পাচার ও সেবন

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ কাশিমপুর কারাগারের ভেতর মাদক পাচার এবং মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। এ পর্যন্ত ওই কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ৯টি বিভাগীয় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত কারারক্ষীর নাম মোঃ মশিউর। তিনি কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত রয়েছে। কারাগার এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মশিউর কারাগারের বাহিরে হরিণাচালা এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসা বাড়িতে গিয়ে মাদক সেবন করে। তার সাথে কারাগারের আশপাশ এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সখ্যতা গড়ে ওঠেছে। ফলে সহজেই তিনি মাদক সেবন এবং কারাগারের ভিতর বিভিন্ন কৌশলে বন্দীদের কাছে মাদক সরবরাহ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন কারাবন্দির স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মশিউর নিয়মিত মাদক সেবন করে থাকে। গোপন ক্যামেরায় তার মাদক সেবনের দৃশ্য ধরা পড়েছে বলেও জানান অনেকেই। এদিকে একজন কারা বন্দির স্বজন জানান, কারারক্ষীর পোশাকের আড়ালে খুব সহজেই কারারক্ষি মশিউর মাদক সেবন এবং সরবরাহ করছেন বন্দীদের কাছে। জানা যায়, কারারক্ষি মশিউরের বিরুদ্ধে এ যাবৎ বহু অভিযোগ জমা রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে। ইতমধ্যে মাদকসহ নানান অভিযোগ থাকায় মশিউরকে কারাগারের ভেতর প্রবেশ নিষেধ করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তার ডিউটি দেয়া হয় আরপি গেটে বা কারাগারের বাহিরে। এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৯টি বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এছাড়াও ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে অনেক বার তাকে সাজা দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। কারাগারে স্লোগান ‘রাখিবো নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ’। কিন্তু মশিউরের মতো কারারক্ষীদের জন্য কি কারাগার নিরাপদ? এ ধরনের অপরাধের সাথে জড়িয়ে তিনি কিভাবে এতো গুরুত্বপূর্ণ কারাগারে চাকুরি করছেন? এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের। কারারক্ষী মশিউর মাদকাসক্ত। কারাগারের ভিতর অপরাধীদের সাথে হাত মিলিয়ে যখন তখন তিনি কারাগারে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই দ্রুত তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন বন্দীদের স্বজন এবং স্থানীয়রা। কিন্তু এ বিষয় সবধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে কারারক্ষী মশিউর বলেন, এটা আমি প্রথম শুনলাম। পরে তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর একাধিকবার তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি আর ফোন ধরেনি। কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মশিউর আমাদের স্টাফ। সে মাদকের সাথে জড়িত এ রকম অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু হাতেনাতে তাকে ধরতে পারিনি। এ ধরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা তাকে কারাগারের ভিতর ঢুকতে দেই না। তাকে কারাগারের বাইরে আরপি গেটে ডিউটি দেওয়া হয়। যার ফলে তার মাধ্যমে কারাগারের ভেতর মাদক সরবরাহের সুযোগ নেই। এ পর্যন্ত কারারক্ষী মশিউরের বিরুদ্ধে ৯টি বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তার সার্ভিস রেকর্ড ভালো বলা যায় না। তার বিরুদ্ধে আমরা দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। জেল সুপার আরো জানান, কারাগারের ভিতর বন্দীদের কাছে যে পরিমাণ মাদক স্টাফদের মাধ্যমে সরবরাহ হয়ে থাকে তার তুলনায় বেশি মাদক আসে বাহির থেকে। কারাগারের পাশেই রাস্তা সেখান থেকেই মাদক দ্রব্য বল আকৃতি করে কারাগারের ভেতর ছুড়ে মারে। পরে তারা দ্রুত চলে যায়। অনেক উদ্ধার করা হয় এরপরেও আমাদের অগোচরে অনেক সময় মাদক ভিতরে ঢুকে যায়। এই জিনিসটা বন্ধ করতে আমরা বাহিরে নেট দিয়ে রেখেছি। যেন বন্দিরা ভিতরে পড়লেও নিতে না পারে। এছাড়া সিসি ক্যামেরার মনিটরিং এবং টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছে। কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সের ভিতর রয়েছে ৪টি কারাগার। এরমধ্যে- কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২, কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার। দেশের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের জঙ্গি সদস্য, বিভিন্ন আলোচিত মামলার আসামি, হত্যা মামলার যাবজ্জীবন ও ফাঁসির দ-প্রাপ্তসহ গুরুত্বপূর্ণ আসামিরা এসব কারাগারে বন্দী রয়েছে।



