জাতীয় সংবাদ

কর্মমুখী শিক্ষায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

সংসদীয় সভায় ৭ মন্ত্রণালয়ের কাজের মূল্যায়ন

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সাত মন্ত্রণালয়ের কাজের মূল্যায়ন করা হয়। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা সূত্রে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সংসদীয় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভা শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, পার্লামেন্টারি ক্যাবিনেট মিটিংয়ে সাতটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা তাদের গত এক মাসের কাজকর্ম, বিদ্যমান সমস্যা এবং তার সমাধানে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছেÑ সেই বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। চিফ হুইপ বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন যে কারিকুলামের ভুল-ত্রুটিগুলো সংশোধন করে তা আপডেট করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যে শিক্ষা কর্মমুখী নয়, যে শিক্ষা মানুষকে কাজ শেখাতে পারে না এবং বিদেশে গিয়ে কিছু করতে পারে না, তা আসলে আমাদের কোনো কাজে আসে না। তাই কারিকুলামে কর্মমুখী শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি দুই থেকে তিন হাজার টাকা কমানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা অতিরিক্ত ফি দাবি করবে বা আদায় করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতের আলোচনা প্রসঙ্গে মো. নুরুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি এবং হাম প্রতিরোধে দেশব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে সভায় জানানো হয়। চিফ হুইপ জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এক হাজার কিলোমিটার নতুন রাস্তার টেন্ডার করেছে। প্রধানমন্ত্রী এক্ষেত্রে কম খরচে এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে কাজ সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিকেএসপির শাখা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। নারী ও শিশুদের উন্নয়নের বিষয়েও কিছু পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর টার্মিনালের উন্নয়ন এবং তিস্তা ব্যারেজ ইস্যু নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের কাজের বিবরণ দেয়। চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশ যে একটা পানির শূন্যতায় ভুগছিল, তার থেকে আমরা বেরিয়ে আসছি। আমরা আশা করছি পানির ব্যাপারে বাংলাদেশ ভালো একটা অবস্থায় যাবে। বিদ্যুৎ খাতের বিষয়ে চিফ হুইপ জানান, বিপুল সংখ্যক মানুষকে নতুন করে বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে এবং দামের ক্ষেত্রে কিছু সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে। দ্রব্যমূল্য ও ডলার সংকট নিয়ে বিগত সরকারের কড়া সমালোচনা করেন মো. নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিগত সরকার যখন চলে যায়, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে তারা ডলারের দাম বাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিল। ৮৬ টাকার ডলার তারা ১১৯ বা ১২০ টাকা করেছিল। প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ ডলারের দাম বাড়ার কারণেই স্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন জিনিসের দাম বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এগুলো নিয়ে কাজ করতে এবং মানুষের কষ্ট লাঘব করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button