উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ পঞ্চগড়ে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশন বা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে বাবুল চন্দ্র রায় নামে এক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রায় ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সঙ্গে অর্থ লেনদেন ও কমিশন নির্ধারণ সংক্রান্ত কথা বলতে দেখা যায়। সোমবার (২২ জুন) দুপুর থেকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ধারণ করা সেই ভিডিওতে দেখা যায়, বাবুল চন্দ্র রায় কয়েকটি প্রকল্পের বরাদ্দের পরিমাণ ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ১৫ শতাংশ কমিশনের অঙ্ক নির্ধারণ করছেন। এক পর্যায়ে তিনি একজনকে বলছেন, মেম্বার সাহেব আপনার ৮ টন গম না, ৪০ করে। মেম্বার বলেন, না স্যার ৩২ হাজার করে। পিআইও বলেন, তাহলে ৩২ ইন্টু ৮, ২ লাখ ৫৬ হাজার ইন্টু ১৫ পারসেন্ট যদি দেন, ৩৮ হাজার টাকা আসে। মেম্বার বলেন, স্যার ৩৮ হাজার টাকার একটু কম করে নেন। কাজেও তেমন লাভ হয়নি। তখন পিআইও বলেন, মেম্বারদের কোনোদিন লাভ হয় না। মেম্বার বলেন, আসলে আমার কাজটা আপনি দেখেননি স্যার। পিআইও বলেন, এটা কোনোদিন শুনছেন মেম্বাররা বলছে আমার লাভ হইছে, আমি যে এতদিন পিআইও হিসেবে করতেছি। আমাকে কোনো মেম্বার বলে নেই আমার লাভ হইছে। মেম্বার বলেন, কাজের তো চাপ স্যার দলীয়ভাবে, জনগণও চায় কাজ একটু ভালো হোক। পিআইও বলেন, আমার কথা আমি বলছি, এখন আপনার কোনো কথা থাকলে বলেন। এ সময় এক ব্যক্তি বলে উঠলেন চাচার একটা টিআর আছে। এ সময় পিআইও বলেন, কত? মেম্বার ১ লাখ ৬২ হাজার। তাহলে ১ লাখ ৬২ ইন্টু ১৫ পার্সেন্ট, ২৪ হাজার টাকা দিতে হবে। এ সময় ওই মেম্বার বলেন, ২৪ হাজার স্যার, আমরা তো সাড়ে তিন বছর পরিষদেই আসিনি, কাজতো আমরা হান্ড্রেড পারসেন্ট করি স্যার। পিআইও বলেন, শুনেন আপনারে আগে পরিষদে আসতে দেয়নি, এরপর থেকে আপনারাও এখন আসতে দেবেন না, শোধবোধ। পরে মেম্বার বলেন, শোধবোধ কেমনে হইল স্যার। আমরা আছি দেড় বছর, পাঁচ বছর তো আর নয়া (নতুন) করে ফিরে আসবে না, সাড়ে তিন বছর গেছে আর দেড়টা বছর। এ সময় আরেক মেম্বার বলেন, টিআর আছে একটা স্যার। পিআইও বলেন, টিআর কত? মেম্বার ১ লাখ ২০ হাজার। পরে তিনি ক্যালকুলেটর চেপে বলেন, ১৮ হাজার টাকা দিতে হবে। পরে মেম্বার বলেন, কাজতো এবার স্যার করছি হান্ড্রেড পারসেন্ট। পরে পিআইও বলেন, এবার কোনো কথা না বলে অপর আরেকজন ব্যক্তিকে দুইটা প্রকল্প স্ক্রিমের হিসাব দিয়ে বলেন, আপনার দুইটা মিলে ৫৬ হাজার আসে। পরে এক মেম্বার বলে উঠলেন স্যার আমারটা কম বেশ করে নিয়ে নেন স্যার, আমরা কোনোদিন কাজ কাম করিনি। পরে পিআইও বলেন, মাথাটা একটু ভালো করে চুলকাও। এক মেম্বার টাকা গুনে দিয়ে বলেন, স্যার নেন না। পরে পিআইওকে বলতে শোনা যায়, পিআইও অফিসটাতো আপনাদেরেই আপনারাই কন, মেম্বারের সামনে ফাইল রেখে বলেন নেও। এদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বাংলানিউজকে বিষয়টি নিয়ে সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি। দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা বাংলানিউজকে বলেন, দুপুর নাগাদ ভিডিওটি নজরে পড়েছে। যে অভিযোগ তোলা হয়েছে পিআইওর বিরুদ্ধে তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


