মারধরের শিকার ব্রাজিল সমর্থক শরিফুল বলছিলেনÑ‘পানি দাও, বুকে খুব ব্যথা করছে’

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ‘আমরা নীলফামারী থেকে অনেক শ্রমিক এখানে এসেছি। শরিফুল ব্রাজিলের সমর্থক ছিল। খেলা চলাকালে সে মিশরের সমর্থন করছিল। আমরা শুনছিলাম, তোর বাপে কী গোল দিতে পারবেনি বলে তর্ক লেগেছে। এক পর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক শরিফুলকে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করে। এতে তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। আমরা তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে গেলে সে তার স্ত্রীকে বলেন, আমাকে পানি দাও, বুকে খুব ব্যথা করছে। এরপর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরই মধ্যে একদল সশস্ত্র যুবক আবারও অস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়। তাদের একজনের নাম বাবু, আরেকজনের নাম মারুফ।’ কথাগুলো বলছিলেন নীলফামারী থেকে কুমিল্লায় কাজ করতে আসা কয়েকজন শ্রমিক। ভাগ্যের সন্ধানে আট মাস আগে শরিফুলের মতো তারাও কুমিল্লায় এসেছিলেন। কিন্তু সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রাণ হারাতে হলো শরিফুলকে। কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা-মিশর ফুটবল ম্যাচ চলাকালে মেসির পেনাল্টি মিস নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে তাকে হত্যা করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার কোটবাড়ী বিশ্বরোডসংলগ্ন উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরিফুল ইসলাম (৩২) নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার উত্তর চেরাংগা এলাকার বাসিন্দা। তিনি মতিউর রহমানের ছেলে। জীবিকার তাগিদে কুমিল্লায় মিশুক চালাতেন এবং মঠপুষ্করণী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। শরিফুলের স্ত্রী বিউটি বানু বলেন, ‘খেলা নিয়া মানুষটারে এইভাবে মাইরা ফালাইবো, এইটা কেমন কথা? আমার দুইডা মাইয়া ছাওয়াল। এহন কারে বাবা কইয়া ডাকবো? আমার দুইডা মাইয়া এতিম হইয়া গেল। যারা আমার স্বামীরে খুন করছে, মুই তাদের কঠিন বিচার চাই। মুই গরিব-অসহায় মানুষ, এহন এই দুইডা মাইয়ারে কেমনে মানুষ করমু? হামার গোটা পরিবারডাই শেষ হইয়া গেল।’ শরিফুলের দুই মেয়ে নীলফামারীতে থাকা অবস্থায় পড়াশোনা করত। বড় মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি আর ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শরিফুল চেয়েছিলেন মেয়েদের কুমিল্লায় স্কুলে ভর্তি করতে। কিন্তু তার সেই আশা আর পূরণ হলো না। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, ফুটবল খেলা নিয়ে বাগবিত-ার এক পর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখনো নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারা লাশ দাফনের কাজে বাড়িতে অবস্থান করছেন। ফিরে এসে মামলা করবেন। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।


