বৈদেশিক মুদ্রার বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার: অর্থমন্ত্রী

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর ২৫ জুন পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এসব কথা জানান। এসময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন। সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম জানতে চান, চলমান ডলার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় সময়ে এলসি বা ঋণপত্র খুলিতে পারছে না। তার ফলে শিল্প কারখানা কাঁচামাল ও অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য আমদানি ব্যাহত হচ্ছে, যা সরাসরি অভ্যন্তরীণ বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যা উত্তরণে সরকারের পরিকল্পনা কী? জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (২৫ জুন, ২০২৬) বৈদেশিক মুদ্রার বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক মূলত সরকারের বৈদেশিক দায়-দেনা নিষ্পত্তি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্টে, ব্যাংকের নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে এবং নগদ বৈদেশিক মুদ্রার সামষ্টিক মজুত প্রায় ২.১৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রপ্তানি আয়, প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং অন্যান্য বৈধ বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহের মাধ্যমে নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণ করে থাকে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমদানি ঋণপত্র খোলা এবং এর বিপরীতে আমদানি মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ঘবঃ ঙঢ়বহ চড়ংরঃরড়হ (ঘঙচ) খরসরঃ অনুসরণপূর্বক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সুতরাং, এলসি খোলার সক্ষমতা মূলত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। নিজস্ব উৎসের অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হলে ব্যাংকগুলো বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃব্যাংক বাজার হতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারে। বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে পর্যাপ্ত তারল্য থাকায় ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় সামগ্রিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। আমদানি ঋণপত্র খোলা ও বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনায় সামগ্রিকভাবে ডলার সংকট বিদ্যমান নেই।



