জাতীয় সংবাদ

ভারতীয় ঢলে ডুবে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৫ গ্রাম

প্রবাহ রিপোর্টঃ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার সীমান্তবর্তী এলাকার ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন শাকসবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোররাত থেকে হঠাৎ করেই ত্রিপুরা রাজ্য থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। পানিবন্দি একাধিক পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার ভোররাত থেকে হঠাৎ ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি আখাউড়া উপজেলার হাওড়া নদী, জাজির খাল এবং কালন্দী খাল দিয়ে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে যায়। আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার ব্যবসায়ীদের অফিস এবং আশপাশের বাড়িঘরে পানি ঢুকে যায়। নি¤œাঞ্চলের ফসলের জমি ও মাছের ঘের ডুবে গেছে।এরই মধ্যে আখাউড়ার দক্ষিণ ইউনিয়নের, আনোয়ারপুর, হিরাপুর, আব্দুল্লাহপুর, ধলেশ্বর, বঙ্গের চর, বাউতলা, বীরচন্দ্রপুর, সাহেবনগর, উমেদপুর ও বাউতলা এলাকার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। একইভাবে আখাউড়া পৌর এলাকার, নারায়ণপুর, তারাগন, ধাতুর পহেলাসহ বেশ কয়েক গ্রামে পানি ঢুকেছে। এ ছাড়া মোগড়া ইউনিয়নের কর্নেল বাজার ও মনিয়ন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষজন বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।আবদুল্লাহপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে এবং বেশি দামে জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। পাহাড়ি ঢলে এখন সব তলিয়ে গেছে। পানি নেমে গেলে আবার কীভাবে নতুন করে ধান রোপণ করবো, সেটা বুঝতে পারছি না। সরকার যেন আমাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে দেয়।’বীরচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক মনু মিয়াও একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ধানের জমি পানির নিচে চলে গেছে। এভাবে পানি আরও বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতি হবে আমাদের।’ রাজেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আমার চার কানি জমির ধান তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতি কম হবে, আর পানি আরও বাড়লে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’ফসলি জমির পাশাপাশি ডুবে গেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও। আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাহবুব মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভোররাতে সর্বনাশা ঢলে আমাদের স্থলবন্দর এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দোকানে পানি ঢুকেছে। পানি বাড়তে থাকলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়বে।’আখাউড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ‘ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল, সীমান্তবর্তী নদী আখাউড়ার হাওড়া এবং দুটি খাল জাজি এবং কালন্দী দিয়ে পানি ঢুকে আখাউড়ার নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তারা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।’আব্দুর রহিম মিয়া আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে সকালে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে তিনি পরিদর্শন করে যাওয়ার পর দুপুরে পানি আরও বেড়ে আরও কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সীমান্তের ওপারে ভারী বৃষ্টি না হলে পানি কমে যাবে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বাড়বে।’ইউএনও তাপসী রাবেয়া বলেন, ‘হঠাৎ নেমে আসা ভারতীয় ঢলে কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। ৩২টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ হক্টের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে মানুষজন এলে শুকনো খাবার ও ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হবে। তবে বিকাল থেকে পানি কমতে থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে আছে।’

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button